২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:০৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিয়া সরেনের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে ডিসি-এসপিকে স্মারকলিপি

রিয়া সরেনের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে ডিসি-এসপিকে স্মারকলিপি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাঁওতাল কিশোরী রিয়া সরেনের মৃত্যুর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঘটনায় কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি নাগরিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি, নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী নারায়ণগঞ্জ, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্র এবং তিতাস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার পক্ষ থেকে এসব স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে রিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাকে শনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-উপাত্ত যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে রিয়ার পরিবার ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জাহিদুল হক দিপু, অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল, অ্যাডভোকেট মোস্তফা করিম, রঘু অভিজিৎ রায়, সালাউদ্দিন আহমেদ, কবি জিয়াবুল ইবন ও সাঁওতাল যুবক দানিয়েল মারান্ডি।

স্মারকলিপি প্রদানকালে সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলেন, রিয়া সরেনের মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের প্রভাব, চাপ বা পক্ষপাত ছাড়াই এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা প্রয়োজন। তদন্তে কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

গত ৭ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জে ১৪ বছর বয়সী রিয়া সরেনের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা করে। তবে পরে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রিয়া আত্মহত্যা করেনি; তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

রিয়ার নানা বাবুরাম মুরমুর অভিযোগ, পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। তবে পুলিশের ভাষ্য, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিয়ার বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে মা রিবিকা মুরমুর সঙ্গে রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মঙ্গলখালী গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় ওঠে রিয়া। প্রায় দুই মাস আগে তার মা দিনাজপুরে ফিরে গেলেও রিয়া ওই বাসায় থেকে যায়। বাসার কাছের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্লাস্টিক পণ্য তৈরির কারখানায় অস্থায়ীভাবে কাজ করত সে। একই কারখানায় তার মাও কাজ করেছেন।

রিয়ার নানা বাবুরাম মুরমুর ভাষ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়িওয়ালী তানিয়া ফোন করে তাদের জানান, রিয়া ‘স্ট্রোক করেছে’। খবর পেয়ে তারা দিনাজপুর থেকে রূপগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। পরদিন সকালে রূপগঞ্জ থানায় গিয়ে জানতে পারেন, রিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যরা রিয়ার মরদেহ দিনাজপুরে নিয়ে দাফন করেন। পরে বাড়িওয়ালীর দেওয়া ‘স্ট্রোক’-এর তথ্য এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয় বলে জানান বাবুরাম মুরমু।

এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যরা রূপগঞ্জ থানায় গিয়ে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে উল্লেখ করে মামলা করতে চান। তারা বাড়িওয়ালী তানিয়া ও তার স্বামী জুয়েলকে সন্দেহ করার কথাও পুলিশকে জানান।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়