০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:৩২, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নামজারি থেকে জরিপ

নারায়ণগঞ্জে ভূমিসেবায় ঘুষের অভিযোগে কোটি টাকার হিসাব

নারায়ণগঞ্জে ভূমিসেবায় ঘুষের অভিযোগে কোটি টাকার হিসাব

নামজারি, খাজনা আদায়, ভূমি জরিপ, খারিজ, মিসকেসসহ বিভিন্ন সরকারি ভূমিসেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে।

বেনামে সরকারি সেবায় ঘুষের দাবির তথ্য সংগ্রহকারী ওয়েবসাইট ‘ঘুষসাইট’-এ গত ২৪ ঘণ্টায় নারায়ণগঞ্জের ভূমিসেবা নিয়ে অন্তত ২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব অভিযোগের কথা জানা গেছে।

জমা পড়া অভিযোগে কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ এমনকি কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য ব্যবহারকারীদের দেওয়া অযাচাইকৃত অভিযোগ। ফলে এগুলোকে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রমাণিত দুর্নীতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের একটি ভূমি অফিসে নামজারির জন্য ১৬ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ এসেছে। আড়াইহাজারের গোপালদী বাজার এলাকায় অনলাইনে খাজনা দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ রাখার অভিযোগ তুলে ২ হাজার টাকা দেওয়ার পর সেবা পাওয়ার দাবি করেছেন একজন।

সিদ্ধিরগঞ্জে বিডিএস জরিপে ২ হাজার ও ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঝালকুড়ি এলাকায় একই জরিপের জন্য ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও এসেছে।

সোনারগাঁয়ে মিসকেসে ৫০ হাজার, খারিজ সংশোধনে ২৫ হাজার এবং খারিজের জন্য ২০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ রয়েছে। আড়াইহাজারে নামজারির জন্য ১২ হাজার টাকা এবং খারিজের ক্ষেত্রে ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ এসেছে।

রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় প্রতিনিধির মাধ্যমে খাজনা দেওয়ার ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বন্দরের মদনপুরে ভূমি করসংক্রান্ত কাজে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া ভূমি রেকর্ডের ক্ষেত্রে ১ কোটি টাকা এবং ঢাকা-সিলেট-তামাবিল প্রকল্পে স্থাপনার ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ২২ লাখ টাকা ঘুষ পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কয়েকটি অভিযোগে টাকা না দেওয়ার বা বিষয়টি মুলতবি রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

ঘুষসাইটে জমা পড়া অভিযোগগুলোর বড় অংশই নামজারি, খারিজ, খাজনা, ভূমি জরিপ, রেকর্ড সংশোধন ও ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনসংক্রান্ত। তবে ওয়েবসাইটটির নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, এসব অভিযোগ সরেজমিনে বা সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাই করা হয়নি।

ঘুষসাইটের নির্মাতাদের ভাষ্য, একই ধরনের সেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লে সেখান থেকে সম্ভাব্য অনিয়মের একটি ‘প্যাটার্ন’ শনাক্ত করা যেতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

এদিকে এসব অভিযোগের মধ্যেই গত ৩১ আগস্ট ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ভূমি কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনে কয়েকটি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টি উঠে আসে। পরে দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ভূমিসেবা নিয়ে ঘুষসাইটে একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় ভূমি অফিসগুলোর সেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়