০৭ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮:০৮, ৭ জুলাই ২০২৬

অতিরিক্ত বিল ও অনিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহে সড়কে বাড়ছে ময়লার স্তূপ

অতিরিক্ত বিল ও অনিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহে সড়কে বাড়ছে ময়লার স্তূপ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ না হওয়া এবং নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলছেন। এতে একদিকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি।

সোমবার সকালে শহরের ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কে ময়লার স্তূপ দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় কয়েক দিন পরপর বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। ফলে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে খোলা জায়গা বা সড়কের পাশে ময়লা ফেলে দিচ্ছেন।

১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ ইশতিয়াক বলেন, “আমরা মাসে ১০০ টাকা ময়লার বিল দিচ্ছি। কিন্তু নিয়মিত ময়লা নেওয়া হয় না। কোরবানির ঈদের পর টানা সাত দিন ময়লা নিতে আসেনি। দুই দিনের বেশি বাসায় ময়লা রাখা যায় না। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে ফেলতে হয়।”

১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “সপ্তাহে তিন-চার দিন ময়লা নিতে আসে। আগে ১০০ টাকা বিল দিতাম, এখন ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত বিলের কারণেই অনেকে রাস্তায় ময়লা ফেলছেন।”

১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর রায় বলেন, “আমার সামর্থ্য আছে, তাই ২০০ টাকা দিয়েও ময়লা দিই। কিন্তু নিয়মিত সংগ্রহ করা হয় না। গরিব মানুষের পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে তারা সড়কে ময়লা ফেলতে বাধ্য হন। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।”

শুধু বাসাবাড়িই নয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকেও অতিরিক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হারে বিল আদায়ের কথা থাকলেও হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

শহরের এক হোটেল মালিক বলেন, “৫০০ টাকার কমে ময়লা নেয় না। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি দিতে হয়। বর্জ্যবাহী গাড়িতে নির্ধারিত বিল উল্লেখ থাকলে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ হতো।”

১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিতাইগঞ্জে অবস্থিত এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপক রোকনউদ্দিন বলেন, “নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ করা হয় না। তাই বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে বর্জ্য রাখতে হয়। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।”

এ বিষয়ে নাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরন বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রশাসক নিয়মিত বিষয়টি তদারকি করছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এর আগে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এক ফেসবুক বার্তায় বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ১০০ টাকার বেশি না দেওয়ার আহ্বান জানান। কেউ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে জানাতে বলেন তিনি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিলেরও হুঁশিয়ারি দেন।

তবে প্রশাসকের ওই নির্দেশনার পরও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ নগরবাসীর। নাসিকের একটি সূত্র জানায়, পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য সংগ্রহ, অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ, কর্মীদের নির্ধারিত পোশাক ও সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারসহ বিভিন্ন নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

এ বিষয়ে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়