খানপুর হাসপাতালে সাধারণ ময়লার সঙ্গে মেডিকেল বর্জ্য, বাড়ছে সংক্রমণ
নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের পেছনে সাধারণ ময়লার সঙ্গে রক্তমাখা গজ, ব্যবহৃত সুচ-সিরিঞ্জ, গ্লাভস, মাস্ক, ব্যান্ডেজসহ সংক্রমণক্ষম মেডিকেল বর্জ্য খোলা জায়গায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের নির্ধারিত বর্জ্য ফেলার স্থানে সাধারণ ও মেডিকেল বর্জ্য একসঙ্গে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আনা বর্জ্য একই জায়গায় ফেলা হচ্ছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশেই রয়েছে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন। বৃষ্টির সময় এসব বর্জ্যের দূষিত উপাদান ড্রেন হয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে মিশে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
জরুরি বিভাগের সামনে থাকা সাতটি বর্জ্যের ঝুড়িতে বর্জ্য আলাদা করার নিয়ম মানা হচ্ছে না। নীল রঙের পাত্রে রক্তমাখা ব্যান্ডেজ ও রোগীর ব্যবহৃত কাপড় রাখা হচ্ছে। আবার লাল রঙের পাত্রে ডাবের খোসাসহ সাধারণ ময়লা ফেলা হচ্ছে। পরে এসব বর্জ্য হাসপাতালের পেছনে একই স্থানে এনে রাখা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় এসব বর্জ্য দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত খোলা অবস্থায় পড়ে থাকে। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দাবি, তারা এক দিন পরপর সাধারণ বর্জ্য অপসারণ করে।
হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা নজরুল ইসলাম বলেন, আগে সিটি করপোরেশন প্রতিদিন সাধারণ বর্জ্য নিয়ে যেত। এখন নিয়মিত নেয় না। গত ১৫ দিনে মাত্র দুইবার বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিদিন বর্জ্য সরানো হলে এভাবে ময়লা জমে থাকত না।
তবে সাধারণ ও মেডিকেল বর্জ্য একসঙ্গে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সংক্রমণক্ষম মেডিকেল বর্জ্য ‘প্রিজম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, সাধারণ ময়লার স্তূপেই ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, রক্তমাখা গজ, গ্লাভস ও অন্যান্য মেডিকেল বর্জ্য পড়ে রয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাসার বলেন, সাধারণ ও মেডিকেল বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণের নিয়ম রয়েছে। তবে কখনো কখনো জরুরি বিভাগের কিছু রক্তযুক্ত বর্জ্য ভুল করে সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে চলে যায়। কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অসাবধানতার কারণেও এমনটি ঘটে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি জানান, হাসপাতালে একটি ইনসিনারেশন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। এটি চালু হলে হাসপাতালেই নিরাপদভাবে মেডিকেল বর্জ্য ধ্বংস করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হিরন বলেন, হাসপাতালের সাধারণ বর্জ্য প্রায় প্রতিদিনই অপসারণ করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ সঠিক নয়। বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই সাধারণ ও মেডিকেল বর্জ্য যথাযথভাবে আলাদা করে সংরক্ষণ করছে না।





































