০৭ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮:১৪, ৭ জুলাই ২০২৬

চিকিৎসককে মারধর: বিএনপি নেতার ছেলে-ভাইসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চিকিৎসককে মারধর: বিএনপি নেতার ছেলে-ভাইসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ছেলে ও ভাইসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে আহত চিকিৎসকের স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার (৪০) বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় উপজেলা বিএনপি নেতা ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ছেলে মো. সুমন (৪০), ভাই বিল্লাল হোসেন (৫৮), বিল্লালের ছেলে মনির হোসেন (৩৫), তাদের অনুসারী সোহান (২৮), সিফাত (২৫), পারভেজকে (২৫) এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন। তবে, এ মামলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি।

মামলার এজাহারে বাদী বলেন, তার স্বামী উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামাল গত ৫ জুলাই সকাল ৮টা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর সঙ্গে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ফারহাদ হোসেন (৩৫) এবং ওয়ার্ডবয় টুটুল শেখও (২৮) ছিলেন।

সকাল সোয়া আটটার দিকে বিএনপি নেতা ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ভাই বিল্লাল হোসেন তার স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাইরে থেকে একটি ইনজেকশন আনতে বলেন। রোগীর স্বজন ইনজেকশন আনতে বাইরে গেলে, একই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দুই রোগীকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক ও দায়িত্বরত কর্মীরা তাদের চিকিৎসায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এজাহারে আরও বলা হয়, “কিছুক্ষণ পর রোগীর স্বজন ইনজেকশন নিয়ে এসে তা প্রয়োগের দাবি করেন। তবে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসা চলায় সামান্য বিলম্ব হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের গালিগালাজ শুরু করেন। পরে সকাল আনুমানিক সোয় নয়টার দিকে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তরা হাসপাতালে প্রবেশ করেন।”

“তারা সরকারি চিকিৎসা সেবা কাজে বাধা দিয়ে আব্দুল্লাহ আল কামালকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে আরও কয়েকজন হাসপাতাল কর্মীকেও মারধর করা হয়। এ সময় আনসার সদস্যরা একজনকে আটক করলে তারা আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান,” উল্লেখ করা হয় এজাহারে।
ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল কামাল বর্তমানে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেও জানিয়েছেন তার স্ত্রী।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়