০৭ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৪১, ৭ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২১:৪৪, ৭ জুলাই ২০২৬

‘সিজান হত্যায় আলেমরা জড়িত নয়’: মানববন্ধনে উলামা পরিষদ

‘সিজান হত্যায় আলেমরা জড়িত নয়’: মানববন্ধনে উলামা পরিষদ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় খেলাফত মজলিসের দুই নেতাকে আসামি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে নারায়ণগঞ্জ উলামা পরিষদ।

তাদের দাবি, মারধরের ঘটনায় জড়িত না থাকলেও ওই দুই নেতাসহ স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের নেতাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাদের নিঃশর্ত মুক্তিরও দাবি জানান উলামা পরিষদের নেতারা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের নগরীর ডিআইটি রেল কলোনী মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর উলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি মামুন ফেরদাউসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি মুফতি আব্দুর রহিম ও মাওলানা নোমান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাহমুদুল হাসান কাসেমী, খেলাফত মজলিসের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ শাব্বীর আহমাদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যায় ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে স্থানীয় আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মো. সিজান (২৫) ও অনিক (২৮) নামে দুই যুবককে মারধর করা হয়। মারধরে গুরুতর আহত সিজান পরে মারা যান।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খেলাফত মজলিসের সদর থানা শাখার সাবেক সহসভাপতি মুফতি কাউছার আহাম্মেদ কাসেমী (৪০) এবং জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনিকেও (৫০) আসামি করা হয়।

তারা দু’জনই আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনেরও সদস্য।

তারা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে মানববন্ধনে উলামা পরিষদের নেতারা বলেন, উলামা পরিষদের নেতা মুফতি আব্দুল গনী ও কাউছার আহাম্মেদ কাসেমীসহ আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তারা আরও বলেন, “মাসদাইর এলাকায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও মাদকের বিরুদ্ধে আল-ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। গত ৪ জুলাই সিজানকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সঙ্গে স্থানীয় ইমাম বা আলেমদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এরপরও তাঁদের হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। যাঁরা সমাজে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কাজ করছেন, তাঁদেরই এখন হত্যা মামলার আসামি করা হচ্ছে।”

বক্তারা সিজানের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানান।

তারা বলেন, “তদন্ত ছাড়াই নিরীহ আলেম, ইমাম ও সমাজকর্মীদের হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা হলে নারায়ণগঞ্জের আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়