০৬ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:১২, ৬ জুলাই ২০২৬

পাবলিক টয়লেটে জনগণের পকেট কাটছে ইজারাদাররা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়  

পাবলিক টয়লেটে জনগণের পকেট কাটছে ইজারাদাররা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়  

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) পাবলিক টয়লেটগুলোতে ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির দ্বিগুণ পর্যন্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। 

ইজারা চুক্তিতে প্রস্রাবের জন্য ২ টাকা, পায়খানার জন্য ৫ টাকা এবং গোসলের জন্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নগরীর চাষাড়া, দুই নম্বর রেলগেট ও ধর্মতলা এলাকার পাবলিক টয়লেটে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। শুধু অতিরিক্ত ফি-ই নয়, অনেক স্থানে নেই নির্ধারিত ফি-তালিকা, আবার কোথাও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পানির সংকটও রয়েছে। 

নাসিক সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে চাষাড়া শহীদ মিনার, দুই নম্বর রেলগেট ও ধর্মতলা—এই তিনটি পাবলিক টয়লেট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চাষাড়া শহীদ মিনার সংলগ্ন টয়লেটটি ৬ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন শাহেব উল্লাহ রোমান।  দুই নম্বর রেলগেটের টয়লেটটি প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন মাহবুব আলম সুমন। ধর্মতলা পাবলিক টয়লেটটি ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন ফয়সাল আবেদ।

নাসিকের ইজারা শর্ত অনুযায়ী, প্রতিটি পাবলিক টয়লেটের সামনে নিজ খরচে ব্যবহার ফি স্পষ্টভাবে লিখে টানিয়ে রাখার কথা। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে একটিতেও সঠিক ফি-তালিকা দেখা যায়নি।

সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, "চাষাড়ার টয়লেটে গেলে কখনো ১০ টাকা, কখনো ২০ টাকা দিতে হয়। টাকা নিয়ে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝগড়া হয়। সিটি করপোরেশন যদি জনগণের সুবিধার জন্য টয়লেট করে, তাহলে নির্ধারিত ফির বাইরে এত টাকা কেন নেওয়া হবে?"

দুই নম্বর রেলগেট এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, "এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসে। বেশির ভাগ মানুষ না জেনেই টয়লেটে ঢুকে পড়ে। বের হওয়ার পর তাদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো টাকা নেওয়া হয়। অনেক সময় পানিও থাকে না। সিটি করপোরেশন শুধু ইজারা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে, পরে আর কোনো তদারকি নেই।"

সরেজমিনে দুই নম্বর রেলগেট পাবলিক টয়লেটে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরের পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে, অপরিচ্ছন্ন এবং দুর্গন্ধে ভরা। টয়লেটের সামনে বসে টাকা আদায় করছিলেন এক কর্মচারী। অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমরা বেতনে চাকরি করি। কত টাকা নেওয়া হবে, সেটা আমরা ঠিক করি না। যারা ঠিক করে, তাদের সঙ্গে কথা বলেন।" তবে ইজারাদারের ফোন নম্বর চাইলে তিনি তা দিতে রাজি হননি।

ধর্মতলা পাবলিক টয়লেটেও একই চিত্র দেখা গেছে। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ফির পরিবর্তে সেখানেও ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী কোনো ইজারাদার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে তার ইজারা বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে নাসিকের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বছরের পর বছর ধরে পাবলিক টয়লেটগুলো নিয়ে বানিজ্য চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের  বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজার কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, "কোনো ইজারাদার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রয়োজন হলে ইজারাও বাতিল করা হবে।"

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার পিএস ফোন রিসিভ করে জানান, স্যার বিশ্রাম করছে এখন তিনি কথা বলতে পারবেন না। 

নগরবাসীর দাবি, শুধু ইজারা দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে পাবলিক টয়লেটগুলোতে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ফি দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়