২৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৩৫, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে ব্যবহারের আগেই ভাঙা পড়ল ১৬ লাখ টাকার শৌচাগার, দায় কার

বন্দরে ব্যবহারের আগেই ভাঙা পড়ল ১৬ লাখ টাকার শৌচাগার, দায় কার

প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শেষে ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল জনশৌচাগারটি। কিন্তু জনগণের ব্যবহার শুরুর আগেই রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এ ঘটনায় প্রকল্প গ্রহণের আগে জমির মালিকানা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নবীগঞ্জ রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় ‘উপজেলা টাউন মাস্টার প্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল শেষ হয়। পরে স্থাপনাটি বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ১২ অক্টোবর রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে শৌচাগারটি ভেঙে ফেলা হয়। রেলওয়ের দাবি, তাদের জমিতে স্থাপনাটি নির্মাণের বিষয়ে আগে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি বা অবহিত করা হয়নি। অন্যদিকে এলজিইডির দাবি, ভাঙার আগে তাদের দপ্তরকে কিছু জানানো হয়নি।

বন্দর উপজেলা প্রকৌশলী এস এম সামিক ইশরাক জানান, স্থাপনাটি নির্মাণের পর তিনি দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন। নির্মাণকালে দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘এটি ভাঙার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।’

উপজেলা প্রকৌশলী আরও জানান, উচ্ছেদের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার বলেন, উচ্ছেদের পর বিষয়টি জেনে তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, তাদের জমিতে সমন্বয় বা অবহিতকরণ ছাড়াই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ কারণে উচ্ছেদ অভিযানে সেটি ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে স্থানীয় ওয়ার্ড সচিব জানিয়েছেন, শৌচাগার নির্মাণের স্থানটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। তবে কোনো এলাকা সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক সীমানায় থাকলেই ওই এলাকার সব জমি সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন হয় না। ফলে এ তথ্য দিয়ে রেলওয়ের মালিকানার দাবি খণ্ডন করা যাচ্ছে না। জমির প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় নির্মিত স্থাপনা বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের কাছে কেন হস্তান্তর করা হলো, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। প্রকল্প গ্রহণের সময় জমির মালিকানা, নির্মাণের অনুমতি এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রায় ১৬ লাখ টাকার স্থাপনা ব্যবহার শুরুর আগেই নষ্ট হওয়ায় সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের স্থান নির্বাচন, অনুমোদন ও বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল কি না এবং উচ্ছেদের আগে দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়