বন্দরে শাহীন-বুলবুল হত্যার বিচার দাবিতে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নাসিকের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের খেলাফত মজলিসের কর্মী শাহীন ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামী আন্দোলনের নেতা বুলবুল হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে খেলাফত মজলিসের বন্দর থানা শাখা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এর আগে সেখানে মিছিলপূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেন বলেন, বন্দরে প্রতিবাদী মানুষগুলোকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। বুলবুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে তিনি ‘সিফাত বাহিনী’র নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আমল থেকেই তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল এবং গণঅভ্যুত্থানের পরও তা অব্যাহত ছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে হাফেজ কবির হোসেন বলেন, সন্ত্রাসীরা মানুষের ওপর জুলুম-অত্যাচার করেছে। এমনকি পুলিশের ওপরও হামলা করেছে। তার দাবি, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি থাকা সত্ত্বেও ‘কিশোর গ্যাং সিফাত বাহিনী’কে আটক করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে বুলবুল হত্যার ঘটনা ঘটে।
প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা প্রশাসনে থেকে অবহেলা করেছে এবং অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে, তাদের কারণে বুলবুলদের হত্যা হয়েছে। প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি প্রশাসনে থাকা আওয়ামী লীগের ‘ঘাপটি মেরে থাকা’ ব্যক্তিদের সরানোর দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কিছু লোকের কারণে বর্তমান সরকারের বদনাম হচ্ছে। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসার পরও জনগণের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনকে কেন সাজানো হচ্ছে না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
হাফেজ কবির হোসেন অভিযোগ করেন, সিফাত বাহিনীকে নবীগঞ্জে কারা আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের সদস্যরা কোথায় রয়েছে, কারা তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে এসব বিষয় পরিষ্কার নয়। তিনি ‘সিফাত ও আবু সাঈদ বাহিনী’র বিরুদ্ধে তদন্ত করে তাদের সঙ্গে বর্তমান সরকারের লোকজনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বের করার দাবি জানান।
খেলাফত মজলিসের বন্দর থানা সভাপতি হাফেজ মাওলানা ফরিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মহানগর সহসভাপতি অধ্যাপক শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মিজানুর রহমান, মহানগর সহসাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদ, সদর থানা সভাপতি খন্দকার হাফেজ আওলাদ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি নুর মোহাম্মদ খান, বন্দর উপজেলা সভাপতি মুফতী আবুল কাসেম, ফতুল্লা থানা সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক, মহানগর বায়তুলমাল সম্পাদক প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মুফতী তৌফিক বিন হারিছ, শ্রমিক মজলিসের জেলা সভাপতি ফারুক আহমদ, ইসলামী যুব মজলিসের জেলা সভাপতি রিফাত আহমদ সাজিদ, ইসলামী ছাত্র মজলিসের মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ ও জেলা সভাপতি মুহাম্মদ আনাসসহ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।





































