১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:১৪, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালাম পরিবারে বিরোধ

কালাম পরিবারে বিরোধ

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ভাই বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির নানা চড়াই-উৎরাই-এর সময় কালাম ও মুকুলকে সবসময় একজোট দেখা গিয়েছে। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে কালাম পরিবারে বিরোধ নিয়ে কানাঘুষা চললেও এবার তা প্রকাশ্যে এসেছে।

সম্প্রতি বিএনপির এক সভায় আতাউর রহমান মুকুলের দেওয়া ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য এবং এই বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আবুল কালামের ছেলে সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশার মন্তব্য তাদের দুই পরিবারের বিরোধকে স্পষ্ট করেছে।

বিএনপির দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, কালাম পরিবারে এই বিরোধ বেশ কয়েক বছর ধরে ছিল। তবে, তা প্রকট আকার ধারণ করে বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। অভিযোগ রয়েছে, দুইবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল নিজে এ নির্বাচনে অংশ নিলেও আবুল কালামের সহযোগিতা পাননি। বরং আবুল কালাম ও তার ছেলে আবুল কাউসার আশা নির্বাচনে মুকুলের বিরোধী চরিত্রে ছিলেন।

আবুল কালাম ও তার ছেলের এই এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে গত জানুয়ারিতে হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এ নির্বাচনে আবুল কালাম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেও আতাউর রহমান মুকুলকে তার প্রচারে দেখা যায়নি।

কালাম ও মুকুল পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি। তার বাবা হাজী জালাল উদ্দিনও ছিলেন সংসদ সদস্য এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এর আগেও তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওইসব নির্বাচনে ভাইয়ের পক্ষে অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে সক্রিয় ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুল। এমনকি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে যেবার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন আবুল কাউসার আশা, তখনো পাশে ছিলেন মুকুল। বিপরীত দিকে আতাউর রহমান মুকুল যে ক’বার উপজেলা পরিষদে নির্বাচন করেছিলেন তখন আবুল কালামের সমর্থন ছিল। কিন্তু গত নির্বাচনেই এই সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেয়।

গত বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই দেখা দেয়। সাবেক দুই উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও এমএ রশীদকে পরাজিত করে মুছাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন জয় পান। এ নির্বাচনে মুকুল তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের পাশে পেলেও আবুল কালাম ও আবুল কাউসার আশার লোকজন নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এরপর বন্দরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা ও হামলার শিকার হন আতাউর রহমান মুকুল। এসব ঘটনায় কালাম পরিবারের ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে মুকুলের সঙ্গে দূরত্ব আরো বাড়ে।

কালাম পরিবারের মধ্যে এই টানাপোড়েনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৮ সেপ্টেম্বর নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায়। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এতে মহানগর বিএনপির প্রবীণ বেশ কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল বলেন, “আমি একজন কালো হাতের ছায়ার মধ্যে ছিলাম। আমি যাকে অনেক পিতৃতুল্য হিসেবে দেখতাম, পীরের মতো মানতাম, সে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল। আমি বুঝতে পারিনি। আমি তার জন্য জীবন দিয়েছি। আমি দলের কমান্ডও মানতে চাই নাই, আমি তার কমান্ড মেনেছি। কিন্তু আজকে আমি অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত।”

আক্ষেপের সুরে তিনি আরও বলেন, “আমাকে আর বঞ্চিত করতে পারবে না। আমি মুকুল নিজের নামে পরিচিত। আমি বিএনপির একজন সামান্য কর্মী। আমি বিএনপির পরিচয়ে থাকবো, অন্য কারো পরিচয় লাগবে না।”

আতাউর রহমান মুকুলের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংসদ সদস্য আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশা। এক অনুষ্ঠানে মুকুলকে উদ্দেশ্য করে আশা বলেন, “উনি নাকি সারাটা রাজনৈতিক জীবন কালো হাতের ছায়ার নিচে ছিলেন। জাতীয়তাবাদী আদর্শে যারা বিশ্বাসী তারা জানতে চায়, এই কালো হাতটি কার ছিল? কারণ যিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন তিনি কয়েকদিন পর পর বিভিন্ন হাতের নিচে গিয়েছিলেন, আপনারা জানেন।”

তিনি আরও বলেন, “কখনো কালাম সাহেবের ভাই যেমন ছিলেন, তেমনি ওসমান পরিবারের লোকও উনি ছিলেন। সুতরাং এই কালো হাতটা কার ছিল তা স্পষ্ট করে বললে ওনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারেও সুবিধা হইতো। এমনিতেই তো উপজেলা নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জনগণ। বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সুবিধা হতো যদি নামটা উনি বলতেন।”

আশা বলেন, “যে যেভাবে ইচ্ছা রাজনীতি করেন। কিন্তু মুনাফেকদের হাত থেকে দূরে থাকার চেষ্টা কইরেন। মুনাফেক চরিত্রের যারা রাজনীতিতে আছেন তাদেরকে বয়কট করবো। যারা অস্তিত্বকে অস্বীকার করে সে তো মানুষ না।”

আশা যখন বক্তব্যে এসব কথা বলেন তখন পাশেই বসা ছিলেন তার বাবা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।

এদিকে, এ পরিস্থিতিতে ফেসবুকে পাল্টা আরেক মন্তব্য করেছেন আতাউর রহমান মুকুলের ছেলে রেজানুর রহমান। দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি মুকুলের রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরার পাশাপাশি কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার উদ্দেশে নানা অভিযোগ ও সমালোচনা করেন। রেজানুর লিখেছেন, ‘মেরুদণ্ড সোজা রেখেছি, বাঁকা করিনি।’

সর্বশেষ

জনপ্রিয়