১৬ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:০১, ১৫ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২২:১৮, ১৫ জুলাই ২০২৬

থানার ভেতর কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা, থামালো পুলিশ

থানার ভেতর কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা, থামালো পুলিশ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ভেতরে এক ব্যক্তি তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে হাতে ম্যাচ নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। পুলিশের দাবি, মাদক বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ওই যুবক এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে বলে জানান এ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

ওই যুবকের নাম মো. রমজান। ৪০ বছর বয়সী এ ব্যক্তি একরামপুর এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।

ওসি জামাল বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ ‘উত্তেজিত’ ওই ব্যক্তিকে নিবৃত করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে এ থানায় অন্তত সাতটি মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে। পূর্বে একাধিকবার তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, প্ল্যাস্টিকের বোতলে করে কেরোসিন এনে থানার ভেতরে নিজের শরীরে ঢালেন। তার আরেক হাতে ছিল ম্যাচবক্স।

গায়ে কেরোসিন ঢেলে থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে উত্তেজিত কণ্ঠে রমজান বলতে থাকেন, “ওসি স্যার, আমি না বাঁচতে পারি। আওয়ামী লীগের আমলে মাদক বেচছি। এখন কাউসার ভাইয়ের কারণে মাদক ছাইড়া ভালো হইয়া গেছি। আওয়ামী লীগের দোসসরা এখনো আমাকে মাদক ব্যবসা ছাড়তে দিতে চায় না। আমি বাঁচতে চাইতেছি স্যার। আমি রিকশা চালাইয়া ভাত খাই এখন। আমার অপরাধ কী স্যার?”

“আওয়ামী লীগের লোকেরা আমারে মাইরালাইতাছে স্যার। ওদের কাছে মইরা লাভ নাই স্যার, আমি আপনের থানার সামনে মরমু। আমি বাঁচতে চাই স্যার। আমার দুইটা সন্তান আছে,” বলতে থাকেন তিনি।

এক পর্যায়ে থানার ওসি তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং অন্য পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় তার হাত থেকে ম্যাচবক্স ছিনিয়ে নিতেও দেখা যায় ভিডিওতে।

পরে তাকে থানার ভেতর গোসল করিয়ে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় বলে জানান ওসি জামাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, রমজানের সঙ্গে মাদক-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। মাদকের টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে রমজান পুলিশকে জানিয়েছে।

“রমজান আমাদের জানিয়েছে, তার সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে হুমকি-ধমকি দিয়েছে। মূলত ক্ষোভ প্রকাশ করতেই সে থানায় এসেছে। পুলিশের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ হয়নি।”

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রমজানের স্ত্রী বলেন, তার স্বামী মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সামনে মাদক বিক্রি না করার অঙ্গিকার করেন রমজান। কিন্তু পুরোনো মাদক বিক্রেতারা এখনো তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির ভাগ দাবি করে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন রমজানের স্ত্রী।

বুধবার সকালে একটি মাদক মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথেও রমজানকে প্রতিপক্ষের লোকজন হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করে তার স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী এখন মাদক ব্যবসা বাদ দিলেও তাকে হুমকি দিতেছে। বলতেছে, এলাকায় থাকতে দিবে না। আমার স্বামী তাই জিদে কইছে, আমি যে মাদক ব্যবসা ছাইড়া দিছি তা মানুষরে মইরা গিয়াই বিশ্বাস করামু।”

তবে, কারা হুমকি দিচ্ছে তাদের নাম নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা থেকে বলেননি ওই নারী।

জানতে চাইলে আবুল কাউসার আশা বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব না। কোন মাদক ব্যবসায়ী গায়ে আগুন দিলো, না কী করলো সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমি মনে করি তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া উচিত এবং তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।”

এদিকে, বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, রমজান এখন হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছেন। পরে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়