সেপ্টেম্বরে খুলছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ডিসেম্বরে শেষ হবে পুরো প্রকল্প
নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন ৬ লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল উড়াল অংশ আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। আর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ের পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। পরে বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয় এবং ব্যয় বৃদ্ধি করে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে সংশোধিত সময়সীমাও অতিক্রম করলেও ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো প্রকল্প শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রকল্পটি চালু হলে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন ঢাকার মূল শহরে প্রবেশ না করেই এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে সরাসরি গন্তব্যে যেতে পারবে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় কমবে।
প্রকল্পের আওতায় ভূমি সমান্তরাল (অ্যাটগ্রেড) ৭ কিলোমিটার সড়ক দুই লেনে উন্নয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি পঞ্চবটি থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত ২ দশমিক ৮০ কিলোমিটার মূল উড়াল অংশসহ ৬টি র্যাম্প নিয়ে মোট ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশ পঞ্চবটি থেকে কাশিপুর পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কের ওপর দিয়ে এবং ২ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার অংশ কাশিপুর থেকে চর সৈয়দপুর পর্যন্ত নিচু ভূমির ওপর নির্মিত হচ্ছে।
যানজট কমাতে পঞ্চবটি মোড় থেকে ফতুল্লা ও চাষাঢ়ার দিকে ৩১০ মিটার করে ৬ লেনের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া মুক্তারপুর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে ৪৪৩ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে।
চর সৈয়দপুরে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর সংযোগস্থলে একটি গোলচত্বর নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে নিচে ও ওপরে দুটি করে মোট চারটি টোল প্লাজা এবং ছয়টি ওজন পরিমাপক স্টেশন থাকবে। নিচের সড়ক দিয়ে যান চলাচল উন্মুক্ত থাকলেও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারে টোল দিতে হবে।
এই সড়কের দুই পাশে বিসিক শিল্পনগরীসহ প্রায় এক হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রায় চার লাখ শ্রমিক কর্মরত। এছাড়া মুক্তারপুর এলাকায় রয়েছে একাধিক সিমেন্ট কারখানা ও হিমাগার। ফলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন এই পথে চলাচল করে। নতুন এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রকল্পটির বাণিজ্যিক প্রভাব নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ বিসিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিকেএমইএর সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন যে কোনো দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। তাই শুধুমাত্র এই প্রকল্পের কারণে ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে এমনটি তিনি মনে করেন না।
প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার প্রকৌশলী জহুরুল হক বলেন, “ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এলিভেটেড অংশের কাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে বিটুমিনের কাজ চলছে। আশা করছি এক মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে। এরপর সংযোগের কাজ সম্পন্ন করতে আরও প্রায় দুই মাস লাগবে।”
তিনি আরও বলেন, “সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এলিভেটেড অংশটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। আর ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন হবে।”





































