পরিবেশ দূষণমুক্ত রেখে সৌন্দর্যবর্ধনই আমাদের উদ্দেশ্য: মামুন মাহমুদ
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেছেন, পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা এবং এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন দুই উদ্দেশ্য সামনে রেখে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খালটি দখল ও দূষণমুক্ত রেখে জনসাধারণের চলাচল ও বিনোদনের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলা থেকে গলাকাটা ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’-এর আওতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “আজকে এই বটতলার বৃক্ষরোপণ এবং সৌন্দর্যবর্ধন এই দুইটা উদ্দেশ্য নিয়েই এখানে গাছ লাগানো হচ্ছে। শুধু বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা বায়ুদূষণ থেকে মুক্তি পাব, সেটি যেমন সঠিক, পাশাপাশি এই এলাকায় যাতে পরিবেশদূষণ না ঘটে, সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি থাকবে।”
জেলার বিভিন্ন এলাকায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারই অংশ হিসেবে বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
খাল সংরক্ষণ ও এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা তুলে ধরে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, জায়গাটি উন্মুক্ত ও সংরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খাল খনন করেছেন এবং অস্থায়ী দোকানপাট সরিয়ে দিয়েছেন। এখন খালটি রক্ষা করার দায়িত্ব স্থানীয়দেরও।
তিনি বলেন, “প্রতিবছর তো আর খাল খনন করা সম্ভব নয়। সুতরাং এই খাল আমাদের স্বার্থেই সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে আমরা কেউ এখানে বাড়িঘর কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁর ময়লা-আবর্জনা না ফেলি।”
বটতলা থেকে গলাকাটা ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা গেলে স্থানীয় মানুষের চলাচল এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এলাকায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে মামুন মাহমুদ বলেন, সড়কের পাশে লাশ গোসল করানোর স্থান ও মরদেহ সংরক্ষণের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ তৈরির ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। এতে স্থানীয় মানুষের ব্যয় কমতে পারে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য ছোট একটি পার্ক তৈরি এবং বটগাছটি সংরক্ষণ করে চারপাশে বসার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এলাকায় ছিনতাই ও মাদক বেচাকেনা বন্ধে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, সন্ধ্যার পর এলাকায় অপরাধ ঠেকাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন। এ জন্য মসজিদ কমিটিকে ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান তিনি। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলো রক্ষায় স্থানীয়দের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জায়গাটি দখলমুক্ত হয়েছে। এখন এ পরিবেশ বজায় রাখা এবং রোপণ করা গাছের যত্ন নেওয়ার দায়িত্বও তাঁদের।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর নিজাম উদ্দিন, প্রফেসর কামরুজ্জামান, স্থানীয় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তারেক ইকবাল লিপু, ইফতেখার কামাল, মো. শহিদুল্লাহ, শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।





































