রবিদাস পাড়ায় চর্মকার সম্প্রদায়ের ভিন্ন পূজা
নারায়ণগঞ্জে আনন্দ-উৎসাহের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন চর্মকার সম্প্রদায়ের সদস্যরা। নগরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনে রবিদাস পাড়া এলাকায় টানা পাঁচ বছর ধরে পৃথকভাবে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করে আসছেন তাঁরা।
এবারও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের সহযোগিতায় পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রবিদাস পাড়ার মাঠে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সচিব প্রাণ গোপাল দাস, রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ একানন্দ মহারাজ ও মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে চর্মকার সম্প্রদায়ের সদস্যদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন খোরশেদ।
এ সময় খোরশেদ বলেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যেরও প্রতীক। বাংলাদেশের প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, সমাজের কোনো মানুষ যেন আর্থিক অসচ্ছলতা কিংবা সামাজিক পরিচয়ের কারণে ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন। এ জন্য সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে চর্মকার সম্প্রদায়ের নেতা নারায়ণ রবিদাস বলেন, “আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজন বৈষম্যের শিকার হতেন। তখন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান। তাঁর সাহস ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চলতি বছরসহ টানা পাঁচ বছর ধরে আমরা পৃথকভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছি।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. আশিষ কুমার দে, অ্যাডভোকেট মনিকা দেবী, বিএনপি নেতা আনোয়ার মাহমুদ বকুল, জয়নাল আবেদীন, নাজমুল কবির নাহিদ, শওকত খন্দকার, আনিসুর রহমান নিক্সন, আফজাল হোসেন, রানা মুন্সি, মনির আহমেদ রাসেল, মো. মিঠু, মো. মুসা, মো. ইমন, কুতুবউদ্দিন, মাসুদ খন্দকার, রাজিব মিয়াসহ পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা।





































