আড়াই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল
বন্ধন পরিবহনের সাবেক এমডি ও মহানগর বিএনপি নেতা মাহবুবউল্লাহ তপনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং পরিবহন শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ তুলে বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ব্যানারে ধর্মঘট ডাকা হয়। এ সময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। তবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বাস চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়েছে।
বুধবার বিকেল ৫টার দিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিবহন মালিকরা এবং নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম।
ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, মালিকদের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। পরে আমি এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশা মালিকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করি। এরপর বাস চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে দুপুরে ধর্মঘটের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী সব যাত্রীবাহী বাস বন্ধ হয়ে যায়। এতে কর্মস্থলগামী ও বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বন্ধন পরিবহনের এক পরিচালক জানান, কোম্পানির একটি বাসের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার রাতে বন্ধন পরিবহনের সাবেক এমডি ও বিএনপি নেতা মাহাবুবউল্লাহ তপন মিশনপাড়া এলাকায় বাসটি আটকে দেন। এর প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খানের অনুসারী এবং বন্ধন পরিবহনের বর্তমান পরিচালক শাহাদাত খান লিটন ও এমডি দেলোয়ার হোসেনের নির্দেশে তাঁদের অনুসারীরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, যারা পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের ব্যানারে ধর্মঘট দিয়ে বাস বন্ধ করেছে, তাদের একজনেরও নিজস্ব বাস নেই। তারা নিজেদের স্বার্থে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করেছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা যেত।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী উৎসব পরিবহনের এক স্টাফ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রায় দুই ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে আমাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। যাত্রীরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নারায়ণগঞ্জের পরিবহন খাত আগে যেমন প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, এখনও তেমনই রয়েছে। সাধারণ পরিবহন মালিক ও যাত্রীরা তাদের কাছে জিম্মি।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্ধন পরিবহনের সাবেক এমডি মাহবুবউল্লাহ তপন এবং বর্তমান এমডি দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বন্ধন পরিবহনের মালিকানা নিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খান ও মহানগর বিএনপি নেতা মাহবুবউল্লাহ তপনের অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেদিন কয়েক দফা গুলিবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে। এতে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।





































