এমপিকে অবরুদ্ধের ঘটনায় মামলার কথা ভাবছে এনসিপি
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনকে ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ রেখে বিসিকে মহড়া ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মারধরের অভিযোগ মামলার কথা ভাবছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ মন্তব্য করে হাতেমের অনুসারী ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের রোষের মুখে পড়েন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও দলটি থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।
বিসিক শিল্পাঞ্চলে একটি পোশাক কারখানায় অবরুদ্ধ থাকার সময় নিচে বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ। ওই সময়ের একটি ভিডিওতে রাসেলকে বলতে শোনা যায়, ‘এমপি প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে’ তারা অবস্থান ছাড়বেন না।
এনসিপির সংসদ সদস্য আল আমিনের অভিযোগ, নিচে তার দলের নেতা-কর্মীদের মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
এই ঘটনায় এনসিপি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক শওকত আলী।
“সংসদ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার সময় সন্ত্রাসীরা অস্ত্রসহ মহড়া দিয়েছে। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করেছে। তাদের মারধরে শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক ফয়সাল আহমেদ চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এসব ঘটনায় আমরা মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি”, বলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে বিসিক শিল্পাঞ্চলের একটি পোশাক কারখানার চতুর্থ তলায় ইফতারের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর পেশাজীবী ফোরাম। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিসিক ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ও নিট ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। ওই সময় একই মঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বক্তব্যে ‘ফ্যাসিস্টের দোসররা’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন বলে মন্তব্য করেন।
এমন মন্তব্য করার পরই হাতেম ও তার অনুসারীরা অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান এবং হট্টগোল শুরু হয়। ইফতারের পর ওই পোশাক কারখানার নিচে কয়েকশ’ মানুষ অবস্থান নেন। ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সংসদ সদস্য আল আমিন। দুই ঘন্টার পর রাত আটটার দিকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শহরের চাষাঢ়ায় এনসিপির কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
বিসিকের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “বিসিকে চিহ্নিত গুন্ডা রাসেল নামের একজন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রসহ বেশ কিছু গুন্ডা ছেলে-পেলে চলে আসে। তারা বলতে থাকে যে, আমাকে ভবন থেকে নামতে দেবে না এবং আমার বক্তব্যের জন্য সরি বলতে হবে। আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমি কাকে সরি বলব? ফ্যাসিস্টের একজন দোসরকে সরি বলার কিছু নাই। সরি বলতে হবে তাকে, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে তাণ্ডব বলেছেন।”
এনসিপির এ সংসদ সদস্য জুলাই আন্দোলনে অবস্থান ও ওই সময় দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে মোহাম্মদ হাতেমকে পরিষ্কার করার আহ্বানও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “৩ আগস্ট, যখন অলরেডি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশে হাজারের ওপর মানুষ শাহাদাত বরণ করেছে, তখন শেখ হাসিনার সামনে দাঁড়ায়া তিনি জুলাইকে তাণ্ডব বলেছেন। অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা কী ব্যবস্থা নিচ্ছে- এই প্রশ্ন করেছিলেন তিনি। গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। আমরা বলছি, স্পষ্ট বক্তব্য দেন-আপনি কি বাধ্য হয়ে বলেছেন, নাকি এটা আপনার বক্তব্য। যদি বাধ্য হয়ে বলে থাকেন, তাহলে জনগণ বিচার করবে। কিন্তু আপনি বক্তব্য স্পষ্ট করবেন না, এরপরেও গণঅভ্যুত্থান থেকে আমরা যারা উঠে আসছি, তারা আপনাদের সঙ্গে এক মঞ্চ শেয়ার করব—এটা হতে পারে না।”
এদিকে, ওই রাতেই একটি ভিডিও বার্তায় বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “ওই অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারাও ছিলেন। আমাদের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন মহোদয় তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে আমাকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে সম্বোধন করলে উপস্থিত শিল্পমালিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর আমি মালিকদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি।”
তবে, এই ঘটনায় থানায় রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান। তারা ঘটনার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন থানা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।





































