০৩ মার্চ ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ২১:৩৩, ২ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২১:৫৫, ২ মার্চ ২০২৬

চুরির অভিযোগে ৩ নারীর চুল কেটে গাছে বেঁধে মারধর

চুরির অভিযোগে ৩ নারীর চুল কেটে গাছে বেঁধে মারধর

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় চুরির অভিযোগে তিন নারীর চুল কেটে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ডহরগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন।

তিনি বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই তিন নারী পুলিশের হেফাজতে থানায় আছেন।

মধ্যবয়সী এ তিন নারীর মধ্যে দু’জনের বাড়ি খুলনাতে এবং একজন কুমিল্লার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম জানান, ডহরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়ার বাড়িতে সোনার চেইন চুরির অভিযোগে বেঁধে রাখা হয় ওই তিন নারীকে। তাদের চুল কেটে দিয়ে মারধরও করেন সেলিম মিয়া, তার পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং ওই তিন নারীকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয় বলেও জানান মেহেদী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ধারালো কেচি দিয়ে তিন নারীর চুল কেটে দিচ্ছেন সেলিম। তখন এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘বাবা চুলডি কাইট্টো না, বাবা।”

তখন সাদা পাঞ্জাবি পরা সেলিম বলেন, ‘তরে পুশকুনিতে (পুকুরে) ফালাইয়া দিমু। চুল থাকলে তোর ঠান্ডা লাইগা যাইবো। তোরে পুশকুনিত ফালাইয়া মারমু।’
এই কথার পরও ওই নারী চুলগুলো না কাটার জন্য আকুতি করতে থাকেন।

চুল কাটার পর কমলা রঙের টি-শার্ট পরা এক যুবক ও আরেক নারীকে দেখা যায় ওই তিন নারীকে মারধর করতে।

ঘটনার বিষয়ে সেলিম মিয়া দাবি করেন, তার স্ত্রীর গলায় থাকা সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দৌঁড়ে পালানোর সময় ধরা পড়েন ওই তিন নারী।

যদিও এএসপি মেহেদী ইসলাম বলেন, “পুলিশের কাছে ওই তিন নারী চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং কাজের খোঁজে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।”

ওই তিন নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “চুরি অপরাধ, কিন্তু সেক্ষেত্রে আইন কারও হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। এমনকি বেঁধে মারধর ও চুল কেটে ফেলাও দন্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে চাইলে উভয়পক্ষ অভিযোগ করতে পারে। সেক্ষেত্রে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবে।”

তবে, রাত নয়টা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন মেহেদী ইসলাম।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়