১১ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:১০, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

মান্নানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে গিয়াসউদ্দিনের আবেদন

মান্নানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে গিয়াসউদ্দিনের আবেদন

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া হলফনামায় নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান পাঁচ ধরনের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব তথ্য উল্লেখ করে মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের জন্য আপিল আবেদন করেছেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াসউদ্দিন। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে তিনি এ আপীল করেন। আগামী ১৯ জানুয়ারি আপিল শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়েছে।

গিয়াস উদ্দিন জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি। নারায়ণগঞ্জ-৪ (যখন এটি ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ ছিলো) আসনের সাবেক এমপি। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৪ এর সিদ্ধিরগঞ্জ অংশ নারায়ণগঞ্জ-৩ এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী। আজহারুল ইসলাম মান্নান বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের আপিল আবেদনে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন পত্রের সাথে দাখিল হলফনামা দাখিল করেন। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার হলফনামার তথ্য যাচাই করে দেখে সিদ্ধান্ত নেননি। সঠিকভাবে যাচাই না করেই মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। হলফনামা সঠিকভাবে যাচাই করলে তার মনোনয়ন বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

আপীলে গিয়াসউদ্দিন উল্লেখ করেন, বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে ফর্ম ২১ এ ভুল এবং মিথ্যা বিবৃতি প্রদান করেছেন। বার্ষিক আয় গোপন করেছেন। হলফনামা থেকে জানা যায়, আজহারুল ইসলাম মান্নান তার ৪৪ কোটি ৯৪ লাখ ১১ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ২০১৮ সালের চাইতে আয়ের পাশাপাশি বেড়েছে জমির পরিমাণও। গত সাত বছরে তিনি ৯৫৬ শতাংশ জমি কিনেছেন। বর্তমানে তার ১২৫৯.৬২ শতাংশ জমি রয়েছে।

গিয়াস উদ্দিন অভিযোগে আরো বলেন, মান্নান হলফনামায় ০২ (দুইটি) ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার উল্লেখ করেছেন। যেখানে তিনি ৫২,৬৮০/- টাকার অবশিষ্ট ব্যালেন্স প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, বসুন্ধরা শাখা, ঢাকায় রক্ষিত অ্যাকাউন্ট নম্বর ২১৬৫১১ ২০০২০৪০ প্রকাশ করেননি। এছাড়াও প্রিমিয়ার ব্যাংকে রক্ষিত আরেকটি অ্যাকাউন্টও প্রকাশ করেননি। রিটার্নিং অফিসার যদি তদন্ত করলে বিভিন্ন ব্যাংকে মান্নানের অন্তত দশটি অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাবেন। কিন্তু আপত্তি উত্থাপন করা সত্তে¡ও রিটার্নিং অফিসার তদন্ত না করেই অবৈধভাবে মান্নানের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গ্রহণ করেছেন।

আজহারুল ইসলাম মান্নান ৫ সন্তানের জনক। কিন্তু তিনি মনোনয়নপত্রে ছেলে সাইদুল ইসলাম ও মেয়ে মালিহা ইসলাম মাইশার নাম উল্লেখ করলেও বাকি ৩ জনের নাম উল্লেখ করেননি। তার ছেলে বড় ছেলে খায়রুল ইসলাম সজিব এবং সাইদুল ইসলাম শাকিল কোটিপতি। তাদের ই-টিন নাম্বার রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তাদেরও সম্পদের হিসাব দেয়ার কথা। কিন্তু সেটি দেয়া হয়নি। তার স্ত্রীরও ই-টিন নাম্বার রয়েছে এবং তাদের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। সে সম্পত্তির হিসাবও হলফনামায় দেয়া হয়নি। আশংকা করা হচ্ছে আজহারুল ইসলাম মান্নান নির্বাচনে অবৈধ জয়লাভের জন্য কালো টাকা ব্যবহার করবেন।

আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আজহারুল ইসলাম মান্নান তার পেশা এবং ব্যবসার বিবরণ গোপন করেছেন। তিনি ‘মেসার্স একতা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনস’ নামে একটি ফার্ম পরিচালনা করেন যার তথ্য হলফনামায় গোপন করেছেন। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে মনোনয়নপত্রে উক্ত ফার্মের একাউন্ট নাম্বার উল্লেখ করেননি।

এ বিষয়ে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, হলফনামা যাচাই বাছাইকালে ১৪ অনুচ্ছেদের (১) ধারার অধীনে এ ব্যাপারে আমি আপত্তি উত্থাপন করি। কিন্তু আপত্তি নিস্পত্তি না করেই রিটার্নিং অফিসার অবৈধভাবে আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন। তিনি আরো বলেন, রিটার্নিং অফিসারের উচিত ছিল উক্ত আপত্তির উপর সংক্ষিপ্ত তদন্ত পরিচালনা করা। কিন্তু আইনের বিধান না মেনে অবৈধভাবে আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্র গ্রহন করা হয়েছে। যা বাতিলযোগ্য। আপীল নিস্পত্তির মাধ্যমে আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

এ ব্যাপারে আজহারুল ইসলাম মান্নানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কোনো তথ্য গোপন করিনি। যেসব তথ্য দেয়া দরকার সবই দিয়েছি। গিয়াস সাহেব শুরু থেকেই আমার বিরুদ্ধে লেগে আছে। অপপ্রচার চালাচ্ছে। সেভাবে না পেরে এখন এই পথে এগিয়েছে। নির্বাচন কমিশন তদন্ত করুক। তদন্ত করে যদি তার আবেদনের সত্যতা পায় তাহলে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেবে। আর সত্যতা না পেলে নির্বাচন করবো।

এসব ব্যাপারে রির্টার্নিং অফিসার ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, বাছাইয়ের সময় এমন কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। আর এখন এ বিষয়ে আমার কোনো এখতিয়ার নেই। আপিলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। তারাই এ ব্যাপারে বলতে পারবে। 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়