নাসিকে আলাদা মশক নিধন বিভাগ গঠনের দাবি ‘নগর ভাবনা’র
আগামী বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু জ্বর মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নগর ভাবনা সংগঠনের আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস।
নগর ভাবনার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে শীতলক্ষ্যা-বুড়িগঙ্গা-বাবুরাইল খালের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিমতলা অংশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এর আগে সংগঠনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, “আমাদের অসচেতনতার কারণেই এডিস মশার বিস্তার ঘটছে। সাধারণত শীত মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকে না বললেই চলে। কিন্তু এ বছর তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। এখনো প্রতিদিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ভয়াবহ মহামারিতে রূপ নিতে পারে।”
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন থেকেই নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। পরিকল্পিত মশক নিধনের জন্য নগর ভাবনার পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে আলাদা মশক নিধন বিভাগ গঠনের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
অসিত বরণ বিশ্বাস আরও বলেন, দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রায় বিলুপ্ত। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নিজেদের শাসকে পরিণত করেছেন। এর ফলে উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণকে সম্পৃক্ত করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। নাগরিকরাই যে রাষ্ট্রের মালিক- এ বিষয়টি ভুলে যাওয়ার কারণে দায়িত্বশীলতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন বাড়ছে।
তিনি খানপুরে বিআইডব্লিউটিএ’র জেটিতে নতুন কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণের সমালোচনা করে বলেন, “নারায়ণগঞ্জ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে পানগাঁও কন্টেইনার পোর্ট ২০১৩ সালে নির্মিত হলেও এখন পর্যন্ত সক্ষমতার ৫ শতাংশও ব্যবহার করা যায়নি। বরং প্রতিবছর ২২ কোটি টাকা লোকসানের কারণে সেটি ২২ বছরের জন্য সুইজারল্যান্ডের একটি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। যেখানে পানগাঁও পোর্ট লাভজনক করা গেল না, সেখানে শহরের ব্যস্ততম এলাকায় খানপুরে নতুন কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণের যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ।”
তিনি দাবি করেন, খানপুরে নির্মাণাধীন কন্টেইনার পোর্টের বিষয়ে কোনো যথাযথ সমীক্ষা করা হয়েছে বলে মনে হয় না। প্রকৃত সমীক্ষা হলে এমন জনবহুল এলাকায় এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের সাহস কেউ পেত না। নগর ভাবনার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি থেকে এ প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা জানান তিনি।
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, নগর ভাবনা সংগঠন গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্য হলো উন্নয়ন পরিকল্পনায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানা নাগরিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকদের সংগঠিত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রমেন্দ্র চন্দ্র সরকার, মো. দেলোয়ার হোসেন, অজয় কুমার বিশ্বাস, নিগার সুলতানা পলি, হাদিউজ্জামান গালিব, লিলু মিয়া, কাজী মাহবুব আলম জয়, মুন্নী সরদার, মোহাম্মদ মাহাবুব মিয়া, রুহুল আমিন মামুন, মোহাম্মদ আল আমিন, তরুণ নাহা, জনি সাহা, জুয়েল ভূঁইয়া, মতিউর রহমান, শাওন আক্তার ও মো. আবুল কালাম প্রমুখ।





































