১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৩:১৭, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশি পাহারায় ইসলামী রীতিতে শুভর জানাজা শেষে দাফন

পুলিশি পাহারায় ইসলামী রীতিতে শুভর জানাজা শেষে দাফন

নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পুলিশি পাহারায় জানাজা শেষে ধর্মান্তরিত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইসলামী রীতি অনুযায়ী তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরে মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত হন শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লাল। তার মৃত্যুর পর মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। নিহতের সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা হিন্দু রীতি অনুযায়ী ছেলের সৎকারের দাবি করেন। অন্যদিকে স্ত্রী, মা, ভাই ও বোন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন জানিয়ে বিল্লালের মরদেহ ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফনের দাবি জানান।

এ নিয়ে বিল্লালের স্ত্রী জ্যোতি হাইকোর্টে রিট করেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ শুনানি শেষে বিল্লালের মরদেহ তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর এবং ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দেন।

রিটকারীর আইনজীবী জুয়েল আজাদ জানান, ২০০৩ সালের ২৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা এফিডেভিটে শুভ, তার মা পার্বতী রাণী দাস ও ভাই সজীব চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে শুভর নাম রাখা হয় মো. বিল্লাল। তিনি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন।

পরবর্তীতে রূপগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের মেয়ে জ্যোতিকে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন বিল্লাল। তাদের দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

আইনি জটিলতার কারণে এত দিন বিল্লালের মরদেহ পুলিশের তত্ত্বাবধানে হিমঘরে রাখা হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশের পর মরদেহটি স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশি পাহারায় জানাজা শেষে মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে নিহতের মা আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমি সন্তান ছাড়া এতিম হয়েছি। দেড় বছরের আমার নাতিরে যারা এতিম করছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমার ছেলেরে যে গুলি করে মারছে, তার ফাঁসি চাই।’

সর্বশেষ

জনপ্রিয়