০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:২৯, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাষাঢ়া ডাকবাংলো ও পুলিশ ফাঁড়ির সীমানা

দেয়াল ভেঙে সড়ক প্রশস্ত, সুফল হকার-ভ্যানের দখলে

দেয়াল ভেঙে সড়ক প্রশস্ত, সুফল হকার-ভ্যানের দখলে

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া ডাকবাংলো ও পুলিশ ফাঁড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়ক প্রশস্ত করা হলেও এর সুফল পুরোপুরি পাচ্ছেন না পথচারীরা। সড়কের বর্ধিত অংশে নির্দিষ্ট ফুটপাত তৈরি না হওয়ায় জায়গাটি এখন হকার, ফলের দোকান, মাটির বাসন-কোসনের দোকান, ভাসমান ব্যবসায়ী ও খালি ভ্যানগাড়ির দখলে চলে গেছে।

ফলে সড়ক প্রশস্ত হলেও পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা হয়নি। ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মূল সড়কেই হাঁটতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের। এতে আবারও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এর আগে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়কের চাষাঢ়া ডাকবাংলো অংশটি সরু থাকায় সেখানে নিয়মিত যানজট ও ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটত। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর ডাকবাংলোর সামনে রিকশায় থাকা অবস্থায় দ্রুতগতির ট্রাকের চাপায় নিহত হন আমেরিকাপ্রবাসী ও নিউইয়র্কের স্কুলছাত্রী বেলী (১৪) এবং তাঁর বাবা আলতাফ হোসেন।

বাবা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সড়কটি প্রশস্ত ও নিরাপদ করার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ১০ জুন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ও পুলিশ ফাঁড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে প্রায় ১০ ফুট জায়গা সড়কের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন প্রত্যাশা ছিল, বর্ধিত জায়গায় পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা হবে এবং যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।

তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে কোনো নির্দিষ্ট ফুটপাত তৈরি হয়নি। বরং সড়কের জন্য ছেড়ে দেওয়া জায়গাটির বড় অংশ দখল করে বসেছে ফলের দোকান, মাটির বাসন-কোসনের দোকান ও বিভিন্ন ভাসমান ব্যবসা। দোকান বন্ধ থাকার সময়ও সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় খালি ভ্যানগাড়ি।

চাষাঢ়ার এই অংশের পাশেই রয়েছে সরকারি তোলারাম কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ। প্রতিদিন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ছাড়াও বিসিকের পোশাকশ্রমিক ও সাধারণ মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। ফুটপাত না থাকায় ব্যস্ত সময়ে শিক্ষার্থীদেরও বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে যানবাহন এড়িয়ে চলতে হয়।

পথচারী লিপি দে বলেন, “প্রতিদিনই এখান দিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। কোচিং থাকে, অসংখ্য শিক্ষার্থীও এই পথ দিয়ে চলাচল করে। ফুটপাত দখল করে ভ্যানগাড়ি ও ফলের বাজার বসানো হয়েছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, ফুটপাত দখলমুক্ত করে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক।”

এ বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) এম এ করিম বলেন, “আমরা তো আর ফুটপাত উচ্ছেদ বা হকার সরাতে পারি না। সিটি করপোরেশন বা কোনো ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করলে ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করি। রাস্তা থেকে কোনো অবৈধ ভ্যান বা অটোরিকশা আটক করলেও জরিমানা করার সরাসরি আইনগত ক্ষমতা আমাদের নেই। এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান মূলত সিটি করপোরেশনের কাজ, আমরা সেখানে সহযোগিতা করি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ আন্দোলনের পর সড়ক সম্প্রসারণ হলেও পরিকল্পিত ফুটপাত ও নিয়মিত দখলমুক্ত রাখার ব্যবস্থা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। তাদের দাবি, পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য দ্রুত ফুটপাত নির্মাণের পাশাপাশি সড়কের বর্ধিত অংশ হকার ও অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়