২৮ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ২৭ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৮:০৫, ২৭ আগস্ট ২০২৬

তৃতীয় লিঙ্গ থেকে পুরুষ লিঙ্গ বদলের আবেদনে বিপা‌কে নির্বাচন কর্মকর্তা!

তৃতীয় লিঙ্গ থেকে পুরুষ লিঙ্গ বদলের আবেদনে বিপা‌কে নির্বাচন কর্মকর্তা!

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) পরিচয়ে ভোটার হওয়ার কয়েক মাস পর পুরুষ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রে লিঙ্গ পরিবর্তনের আবেদন করেছেন ২২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন হয়েছে দাবি করে তিনি মাকে সঙ্গে নিয়ে গত ২৫ আগস্ট নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিব্রতকর ও জটিল পরিস্থিতিতে পড়েন কর্মকর্তারা।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তাসিনুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। 

তিনি বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের প্রতি নির্বাচন কর্মকর্তাদের যথাযথ সম্মান ও সহমর্মিতা রয়েছে। তাঁদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে এমন পরিস্থিতিতে করণীয় কী, তা নিয়ে তাঁরা ‘হতবিহ্বল’ হয়ে পড়েছিলেন।

তাসিনুর রহমানের ভাষ্য, ওই ব্যক্তি আড়াই থেকে তিন মাস আগে প্রথমবার ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন। তখন তিনি ও তাঁর মা জানান, আবেদনকারী তৃতীয় লিঙ্গের। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবিতেও তাঁকে শাড়ি ও কানে দুল পরা অবস্থায় দেখা যায়।

এর কয়েক মাস পর গত ২৫ আগস্ট একই ব্যক্তি আবার তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন। এবার তাঁর দাবি, তিনি আর তৃতীয় লিঙ্গের নন; অস্ত্রোপচার করিয়ে পুরুষ হয়েছেন। তাই জাতীয় পরিচয়পত্রে লিঙ্গ পরিবর্তন করে তাঁকে পুরুষ হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে।

তাসিনুর রহমান তাঁর অভিজ্ঞতার বর্ণনায় লিখেছেন, কক্ষে ঢুকেই ওই ব্যক্তির মা তাঁকে বলেন, ‘স্যার, আমার ছেলে আগে হিজড়া ছিল, এখন পুরুষ। সার্জারি করিয়েছি, এখন লিঙ্গ পাল্টে দিন।’

এতে নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হয়। কারণ, অল্প সময়ের ব্যবধানে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে নিবন্ধিত একজন ব্যক্তির লিঙ্গ পরিবর্তন করে পুরুষ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের জন্য কী ধরনের প্রমাণপত্র প্রয়োজন, সেটিই হয়ে ওঠে মূল প্রশ্ন।

নির্বাচন কর্মকর্তা তাসিনুর রহমান বলেন, ‘মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়া এটা কোনোভাবেই সমাধান করা যাবে না। এটা একটি সেনসিটিভ ইস্যু।’

তিনি বলেন, ‘আমরা হিজড়া গোষ্ঠীকে যথাযথ সম্মান করি। তাঁদের প্রতি আমরা সহমর্মী। তাঁদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বেটার সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করি। এ ধরনের সিচুয়েশনে কী করণীয়, তা নিয়ে হতবিহ্বল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।’

চাকরিজীবনের এমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তাসিনুর রহমান বলেন, প্রতিদিন কত রকমের ঘটনা ও বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়, তা শুধু তিনি ও আল্লাহই ভালো জানেন।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না করে বিষয়টিকে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন প্রক্রিয়ার একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়