২৩ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ২২ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৯:৪৭, ২২ আগস্ট ২০২৬

চাষাঢ়া-পঞ্চবটি যানজটে ফিরে যাচ্ছেন বিদেশি ক্রেতারা 

চাষাঢ়া-পঞ্চবটি যানজটে ফিরে যাচ্ছেন বিদেশি ক্রেতারা 

ভাঙা সড়ক, খানাখন্দ ও তীব্র যানজটে নাকাল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীর শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। এতে একদিকে পণ্য পরিবহনে বাড়ছে সময় ও খরচ, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, যানজটের কারণে বিদেশি ক্রেতাদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এমনকি কারখানা পরিদর্শনে এসে মাঝপথ থেকেই ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিসিক শিল্পনগরীর বিভিন্ন সড়কের পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও জমে আছে পানি ও কাদা। পণ্যবাহী ভ্যান, ট্রাক ও শ্রমিকদের এসব ভাঙাচোরা সড়ক দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে।

এই দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি টের পাচ্ছেন পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। বিসিকের এক ভ্যানচালক মোহাম্মদ জামিল হোসেন বলেন, ‘আমাদের একটি গাড়িতে ডাইং থেকে কারখানায় মাল নিতে ছয়জন লোক লাগে। পাকা রাস্তায় কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু এই ভাঙা সড়কে কখন গাড়ি উল্টে যায়, তার ঠিক নেই। গাড়ি উল্টে গেলে মালিককে জরিমানা দিতে হয়। রাস্তা ভালো থাকলে এই ভয় থাকত না, কাজ করেও আরাম হতো।’

শুধু পণ্য পরিবহন নয়, প্রতিদিনের যাতায়াতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন পোশাক শ্রমিকেরা। বিসিকের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন কাজে আসা-যাওয়ার সময় ভাঙা রাস্তা আর যানজটের কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়। বৃষ্টির সময় সড়কে পানি ও কাদা জমে থাকায় হাঁটতেও কষ্ট হয়। কখনো কখনো সময়মতো কারখানায় পৌঁছানো যায় না। আমরা অনেক আগে থেকেই এই কষ্ট করছি।’

বিসিকের ভেতরের সড়কের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে প্রবেশের পথেও রয়েছে যানজটের ভোগান্তি। ঢাকা থেকে চাষাঢ়া হয়ে পঞ্চবটি দিয়ে বিসিকে প্রবেশের সময় প্রায়ই দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয় বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

বিসিকের সাফিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেডের পরিচালক রোকনউদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিসিকের ভাঙা রাস্তা আর শহরের যানজট নিয়ে অনেক সমস্যার মধ্যে আছি। এটা আমাদের সংগঠনের নেতাদেরও অজানা নয়। কিন্তু কেন এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, তা জানি না।’

যানজটের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের ভোগান্তির কথাও জানান তিনি। রোকনউদ্দিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার এক বিদেশি বায়ার চাষাঢ়ায় কয়েক ঘণ্টা জ্যামে বসে থেকে সেখান থেকেই ঢাকায় ফিরে গেছেন। এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার।’

অবকাঠামোগত দুর্বলতার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের যানজটও শিল্পের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, গাজীপুরের তুলনায় বিসিক ও আশপাশের অবকাঠামো অনেক পিছিয়ে। অথচ এই শিল্পাঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে।

বিসিকের আরেকটি কারখানা জিএম ফ্যাশনের পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শিপমেন্টের সময় বিসিক থেকে মালবাহী একটি গাড়ির চট্টগ্রাম যেতে আট ঘণ্টা লাগে। কিন্তু পঞ্চবটি থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত যেতেই দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যায়। এতে আমাদের আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতি হচ্ছে।’

শিল্প উদ্যোক্তাদের এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার বলেন, বিসিকের ভেতরের সড়কের সমস্যার কারণে শুধু শ্রমিকদের নয়, আশপাশের এলাকাতেও চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে বিকেএমইএর সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পঞ্চবটি থেকে বিসিক হয়ে মুন্সিগঞ্জের মোক্তারপুর পর্যন্ত উড়ালসড়কের কাজ চলায় সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। ফলে চাষাঢ়া থেকে এ এলাকায় আসতে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিসিকের এই অবকাঠামোগত সংকট শুধু শ্রমিকদের দৈনন্দিন ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন, রপ্তানি সময়সূচি ও বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কেও। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সড়ক ও যানজট সমস্যার সমাধান না হলে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পাঞ্চলের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়