১৯ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:১৬, ১৮ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২০:১৭, ১৮ আগস্ট ২০২৬

দুই মাদক ব্যবসায়ীর ফোনালাপ ভাইরাল: ‘টাকা দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ’

দুই মাদক ব্যবসায়ীর ফোনালাপ ভাইরাল: ‘টাকা দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ’

নারায়ণগঞ্জে দুই মাদক ব্যবসায়ীর কথোপকথনের একটি ফোনালাপে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তাকে টাকা দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। কথোপকথনে অভিযানে আটকের পর কোন কর্মকর্তাকে কত টাকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন, সে বিষয়েও আলোচনা করতে শোনা যায় তাদের।

সম্প্রতি এমন একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ফোনের একপ্রান্তে ছিলেন নগরীর ইসদাইর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক। অপরপ্রান্তে ছিলেন মাদক ব্যবসায়ী আয়েশা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজ্জাকের নেতৃত্বে ‘রাজ্জাক বাহিনী’ নামে একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্র সক্রিয় রয়েছে ইসদাইরে। এ বাহিনীর অন্যতম দুই সদস্য তার নিজের দুই ছেলে- মো. জসিম ও মো. ওয়াসিম।

গত এপ্রিলে ৫৩ রাউন্ড তাজা গুলিসহ ইসদাইর এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন রাজ্জাক ও তার ছোটছেলে ওয়াসিম। তার কয়েকদিন আগে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন বড়ছেলে জসিম।

সম্প্রতি তারা তিনজনই জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন এবং এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ আবার পুনরায় নেওয়ার চেষ্টা করেন। গত শনিবার দুপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র এলাকায় মহড়া দেওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশ সেখানে গেলে জসিম ও তার অনুসারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ছে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জসিম ও তার এক সহযোগী মোহনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর এই ঘটনায় ওই এলাকা থেকে আরো কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তবে, রাজ্জাক ও তার ছোটছেলে ওয়াসিম এখন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের একাধিক সূত্র ও এলাকাবাসী।

এই ঘটনার পরই রাজ্জাকের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী আয়েশার একটি ফোনালাপ ভাইরাল হয়েছে। ফোনালাপে এক মাদক ব্যবসায়ীকে অপরজনের সঙ্গে পুলিশের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তাদের কথোপকথনে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর টাকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

একপর্যায়ে তারা নির্দিষ্ট কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে তাদের টাকা দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। কার কাছে কত টাকা দেওয়া হয়েছে এবং কোন ঘটনায় ওই টাকা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়েও কথোপকথনে তথ্য উঠে আসে।

ফোনালাপে রাজ্জাককে আয়েশা বলেন, ইসদাইরের গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে পুলিশ তাকে খুঁজছে। কিন্তু মাত্র ৩০ দিন আগেই পুলিশের এক কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

আয়েশা বলেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এ পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গেই তার ‘ভালো সম্পর্ক’ বলেও কথোপকথনের এক পর্যায়ে বলেন আয়েশা।

আতিক ও রুবেল নামে অপর দুই পুলিশ সদস্যও তাকে আটক করার পর ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৪ লাখ টাকা নিয়েছেন বলেও রাজ্জাককে জানান আয়েশা।

আয়েশা বলেন, “আতিক আমারে ধইরাই ৪ লাখ খাইছে। কয়েকদিন আগে। আতিক আর রুবেল।”

ওই সময় রাজ্জাককে বলতে শোনা যায়, “হ, এই টিমটায় হেরা দুইজনই থাকে।”

ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দন চন্দ্র সরকার ও মো. রফিকও তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আয়েশা।

এসআই নন্দন ও রফিক গত শনিবারের ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ীদের ইট-পাটকেলে আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “অডিও কলের বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে। তারা দু’জনই ইসদাইর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। আগেও কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। এরা খুব চালাক। আইনের হাত থেকে বাঁচতে মাদক ব্যবসায়ীদের এসব বিষয়ে নানা কৌশল থাকে, তারপরও যেসব পুলিশ সদস্যের নামে অভিযোগ উঠেছে তা যাচাই করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়