১৬ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৫৬, ১৫ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২১:৫৯, ১৫ আগস্ট ২০২৬

প্রমাণিত হয়নি অনিয়মের অভিযোগ, শিক্ষককে যোগদানে ‘বাধা’

প্রমাণিত হয়নি অনিয়মের অভিযোগ, শিক্ষককে যোগদানে ‘বাধা’

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শিক্ষাবোর্ড থেকে স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও কর্মস্থলে যোগ দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী জুয়েল রানা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বিক্ষোভের মুখে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয় এ শিক্ষককে। তিনি ওই সময় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

এ শিক্ষকের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক সদস্য নাছির প্রধান, তার ছেলে ওয়ালিদ প্রধান, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অর্জুন চন্দ্র ঘোষ ও ধর্মীয় শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন ‘প্রভাব খাটিয়ে’ তাকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে দিচ্ছেন না।

“গত ১৩ আগস্ট সকালে আমি দায়িত্ব নিতে গেলে তারা আমাকে বাধা দেয়। অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে আমাকে হুমকিও দেয়,” বলেন জুয়েল।
এ ঘটনায় তিনি ওইদিনই ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।

বিদ্যালয়ের নথিপত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দেলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন কুতুবপুর ইউনিয়নের ভূঁইগড় এলাকার বাসিন্দা কাজী জুয়েল রানা। পরের বছরের এপ্রিলে প্রধান শিক্ষক অবসরে গেলে এ পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

গত বছরের ২৫ আগস্ট কাজী জুয়েল রানার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপর এক নারী শিক্ষকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে তোলা হয়। পরে ৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে তাকে অপসারণেরও দাবি জানায়। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভায় জুয়েল রানাকে অব্যাহতি এবং পরবর্তী জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অর্জুন চন্দ্র ঘোষকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এসব অভিযোগের তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান ছিলেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুরাইয়া আশরাফী।

তদন্ত কমিটি চলতি মাসের ৩ তারিখ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে তারা জানায়, কাজী জুয়েল রানার বিরুদ্দে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এ প্রেক্ষিতে পরদিন ওই শিক্ষকে সপদে বহালের জন্য নির্দেশনা দেয় বোর্ড। এবং ওই শিক্ষককে তার প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতাদি পরিশোধসহ সাত কার্যদিবসের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের অনুমতি দিতে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদকে (এডহক কমিটি) নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কাজী জুয়েল রানা বলেন, “বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১২ আগস্ট বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমা আমার স্কুলে যোগদানপত্র গ্রহণ করেন। কিন্তু পরদিন স্কুলে গেলে আমাকে বাধা দেওয়া হয়। আমাকে সাতদিনের সময় দিলেও আমি কর্মস্থলে যোগ দিতে পারছি না।”

“কমিটির সাবেক সদস্য নাছির প্রধান ও তার ছেলে ওয়ালিদ প্রধান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা প্রভাব খাটিয়ে আমাকে বাধা দিচ্ছেন,” আরও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে, এ বিষয়ে দেলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অর্জুন চন্দ্র ঘোষ মুঠোফোনে বলেন, “আমি তাকে স্কুলে যোগদানে বাধা দিয়েছি বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বোর্ডের একটি চিঠি আমি গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পেয়েছি। আমি এটি স্বাক্ষর করে রেখেছে, সভাপতিকে দেওয়ার জন্য। তিনিই এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন যে উনি কোন পদে থাকবেন এবং আমি কোন পদে থাকবো।”

“আমার চাকরির সময় আছে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ পর্যন্ত। আমার তো এমনিতেই সময় শেষ। আমি কাউকে বাধা দিতে যাওয়ার কারণ নেই। কিন্তু কাজী জুয়েল রানার পুনরায় যোগদানের বিষয়ে স্কুলের দাতা সদস্য ও সাবেকর কমিটির সদস্যদের আপত্তি রয়েছে। তবে এটিও সমাধান করবে প্রশাসন,” যোগ করেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে পদাধিকারে এ বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমা বলেন, “বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বুধবার ওই শিক্ষকের যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এরপর তাকে কর্মস্থলে যোগ দিতে বাধা প্রদানের বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়