০৪ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:৩০, ৩ আগস্ট ২০২৬

‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা

‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা

নারায়ণগঞ্জে গত দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অন্যান্য মাসের তুলনায় জুন ও জুলাই মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখেই বিল বাড়ানো হয়েছে। অনেকের দাবি, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই দুই মাসে ৫০ থেকে ৬০ ইউনিট পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল যোগ করা হয়েছে। ফলে প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন তাঁরা।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা। অনেকেই তাঁদের পাওয়া বিলকে ‘ভূতুড়ে বিল’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাঁদের দাবি, বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না থাকলেও আগের মাসগুলোর তুলনায় জুন ও জুলাই মাসের বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অনেকে নিজেদের বিদ্যুৎ বিলের কপি ও তথ্য প্রকাশ করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের একটি মাদরাসার শিক্ষক বিন রফীক কাসেমী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট, ইউনিটপ্রতি আগের চেয়ে দেড় টাকা বেশি মূল্য—এসবই জুলুম।”

তিনি জানান, গত মে মাসে তাঁদের মাদরাসার বিদ্যুৎ বিল ছিল প্রায় ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু জুন মাসে সেই বিল বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার টাকায়। তাঁর দাবি, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ বিল প্রায় তিন গুণ বেড়ে গেছে।

আরেক গ্রাহক শিল্পী মুল্লিক জানান, গত মাসের তুলনায় এবার তাঁকে প্রায় ১ হাজার টাকা বেশি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও অনেক গ্রাহক।

গ্রাহকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে যাঁদের মাসিক বিল কয়েক হাজার টাকা বেড়েছে, তাঁদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই নয়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গত ২২ জুলাই নারায়ণগঞ্জ নগরীর কিল্লারপুল এলাকায় নাগরিক অধিকার ফোরামের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ডিপিডিসির অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা নারায়ণগঞ্জ ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী (দক্ষিণ) মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়