২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৫৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৬ বছর পর একতা সুপার মার্কেটে নির্বাচনের উদ্যোগ

২৬ বছর পর একতা সুপার মার্কেটে নির্বাচনের উদ্যোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুরের একতা সুপার মার্কেটে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের বিরোধ ও নানা অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে নতুন করে নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিন মাসের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে একতা সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা।

সভায় আবুল কাউসার আশা বলেন, ‘অন্যায়, অবিচার বা দুর্নীতির কোনো পক্ষ নেই। সবাইকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে যেতে হবে। ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে এবং নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।’

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন মদনপুরে একতা সুপার মার্কেট ১৯৯৭ সালে ১০১ জন সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০০ সালের ১৬ নভেম্বর ‘একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে এটি নিবন্ধিত হয়। সমিতিটির নিবন্ধন নম্বর ৩৩৬।

ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় সুরুজ মিয়া সমিতির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এ সময়ে সমিতির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম, হকার ও দোকান মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের হিসাব না রাখা এবং প্রভাব খাটিয়ে অন্তত ১২ সদস্যের দোকান দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সমিতির সাবেক ক্যাশিয়ার হাফেজ মো. ইসহাক কবিরের অভিযোগ, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সমিতিতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা জমা হলেও পরে অর্থসংক্রান্ত বিরোধে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তার দাবি, তারসহ কয়েকজন সদস্যের দোকান দখলে নিয়ে অন্যরা সেগুলোর ভাড়া আদায় করছেন।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সমিতির নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তী সময়ে গঠিত কমিটি নিয়েও সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, অধিকাংশ সদস্যকে না জানিয়ে সুরুজ মিয়ার ঘনিষ্ঠ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়।

তবে বর্তমান কমিটির পক্ষ থেকে এর আগে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সমবায় আইন অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা সমবায় দপ্তরকে অবহিত করেই ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচিত করা হয়। ফলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন।

দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টি আবুল কাউসার আশাকে জানান ব্যবসায়ীরা। পরে তিনি মার্কেটে গিয়ে উভয় পক্ষের ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

বুধবারের মতবিনিময় সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মার্কেট পরিচালনার জন্য তিন মাস মেয়াদি একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হবে। এই সময়ের মধ্যে সদস্য ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। নির্বাচনের পর নতুন কমিটির কাছে মার্কেট ও সমিতির দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ও দোকানসংক্রান্ত বিরোধের সমাধান হবে এবং মার্কেট পরিচালনায় স্বচ্ছতা ফিরবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুরুজ মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়