২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:১৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা

জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, মাসিক কল্যাণ সভা ও আগস্ট মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পেশাগত দক্ষতা ও বিভিন্ন অভিযানে সাফল্যের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় মাস্টার প্যারেডের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এতে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।

পরে সকাল ১০টায় পুলিশ লাইনস ড্রিল শেডে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা তাদের সমস্যা ও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

সভায় পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়।

বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) দীপংকর ঘোষ এবং বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী বুলবুল হত্যা মামলায় শেখ সিফাতসহ ১১ আসামিকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হয়েছেন এসআই মো. রমজান হোসেন। তিনি ৫৬টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি করেন। শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত হয়েছেন এএসআই আনোয়ার হোসেন। তিনি ৩৮টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিষ্পত্তির পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার এবং ৩৯টি ইয়াবা ও ৬ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেন।

শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন এসআই মো. আবু সাদেক। পুলিশের হিসাবে, তিনি পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৭৬ কেজি গাঁজা ও ১০০টি ইয়াবা উদ্ধার করেন।

এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার শ্রেষ্ঠ অস্ত্র উদ্ধারকারী কর্মকর্তা এবং ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটনকারী কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন। অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন ও লুণ্ঠিত হায়েস গাড়ি উদ্ধারে ভূমিকার জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হয়।

এসআই মফিজুল ইসলাম পিপিএম ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটনকারী কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন। ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার ও স্বর্ণ উদ্ধার, অপহৃত তিন ব্যক্তিকে ৫৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার এবং অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধারে ভূমিকার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

জেলার শ্রেষ্ঠ ডিবি কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন এসআই মিঠুন কুমার দত্ত। তার নেতৃত্বে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে অবদানের জন্য জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) এসআই মো. ইজাহার আলী, ওয়াচার কনস্টেবল মো. মোখলেছুর রহমান ও মো. ইসমাইল খান এবং এসএএফের কনস্টেবল মো. সাজ্জাদ বিন ইউসুফ ও মামুন অর রশিদকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

দুপুর ১২টায় আগস্ট মাসের বিভিন্ন মামলার অগ্রগতি ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তারেক আল মেহেদী আগস্ট মাসের মামলার অগ্রগতি, অপরাধের পরিসংখ্যান ও আইনগত কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

সভায় পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান মামলা তদন্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন—সিআইডি নারায়ণগঞ্জের প্রধান মো. জাকির হোসেন, পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বিপিএম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মাহমুদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়