২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:৩৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ, গ্রেপ্তার ২

নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ, গ্রেপ্তার ২

লিবিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক ইদ্রিস আলীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন উত্তম সরকার ওরফে সুমন (৪৪) ও মরজিনা বেগম (৩৯)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পিবিআই জানিয়েছে, এ সময় মরজিনা বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস আলী (৫৪) লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে থাকতেন। গত বছরের ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্রসহ তিনটি গাড়ি নিয়ে তার বাসার সামনে যায়। পরে তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে অজ্ঞাত একটি ভবনের কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময় তার পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নেয় অপহরণকারীরা।

অপহরণের দুই দিন পর ইদ্রিসকে মারধর করে সেই নির্যাতনের ভিডিও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের মোবাইল ফোনে পাঠানো হয়। তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রথমে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে ফাতেমা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে ওই টাকা পাঠান। পরে অপহরণকারীরা আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও ইদ্রিসকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার ডান পা ভেঙে যায়। বন্দি অবস্থায় তাকে দিনে মাত্র এক প্যাকেট রুটি ও এক বোতল পানি দেওয়া হতো।

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, বিভিন্ন সময়ে অপহরণকারীদের কাছে মোট ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হয়।

অপহরণের পর ইদ্রিসকে ত্রিপোলির মদিনা এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় গত ২২ জুলাই তিনি দেশে ফেরেন।

দেশে ফেরার পর ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা তদন্তভার গ্রহণ করে।

তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে উত্তম সরকার ওরফে সুমন এবং মরজিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শেষে বুধবার দুজনকে আদালতে পাঠানো হলে মরজিনা বেগম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই জানিয়েছে, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়