২৬ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:২৮, ২৫ আগস্ট ২০২৬

আইনজীবী সমিতির নির্বাচন জানুয়ারিতে, যুক্ত হচ্ছে নতুন ২ পদ

আইনজীবী সমিতির নির্বাচন জানুয়ারিতে, যুক্ত হচ্ছে নতুন ২ পদ

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আগামী জানুয়ারি মাসে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটিতে নতুন দুটি পদ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে নির্বাচন প্রায় চার মাস পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন আইনজীবীদের একাংশ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধান।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ সভায় দ্রুত এক বছরের জন্য নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে গত বছরের ২৮ আগস্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এক বছর পর সেপ্টেম্বরে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের কথা ছিল।

তিনি বলেন, “এরপর এজিএমে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল, পূর্বের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন যেন জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয়। আজকের ইজিএমে বিজ্ঞ আইনজীবীরা এতে সমর্থন দিয়েছেন। তাই জানুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

এবার নির্বাচনে নতুন দুটি পদ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে আনোয়ার প্রধান বলেন, “আমরা সাধারণত ১৭টি পদে নির্বাচন করি। এবার সকল আইনজীবীর সমর্থনে আরও দুটি পদ যুক্ত হয়েছে—আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। এছাড়া মেডিক্যাল ফান্ড বৃদ্ধিরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

জামায়াতপন্থী আইনজীবী এম এ হাফিজ মোল্লা বলেন, প্রতিবছর জানুয়ারি মাসেই বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। গতবছর তা ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবার প্রায় এক বছর পূর্ণ হয়েছে। তাই আগের সংবিধান অনুযায়ী জানুয়ারিতে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাভাবিক নিয়মে ফেরার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

তবে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোর্শেদ গালিব।

তিনি বলেন, “নির্বাচন চার মাস না, প্রয়োজনে ১৪ মাস পিছানো হোক। কিন্তু নির্বাচন পিছানোর যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে। এখানে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। একজন প্রস্তাবনা দেয়, দুই-পাঁচজন এসে পাশ-পাশ বলে দেয়, এটা তো আমাদের সংবিধানের মধ্যে পড়ে না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “তারা চার মাস বেশি যেন ক্ষমতায় থাকতে পারে, সে জন্য নির্বাচন পিছানো হয়েছে। দেশে এমন কোনো অরাজকতা নেই বা ওপরের কোনো নির্দেশনাও নেই যে নির্বাচন চার মাস পিছাতে হবে। শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বার্থে নির্বাচন পিছানো হয়েছে।”

গালিব আরও বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে সমিতির অর্থও অপ্রয়োজনে ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে এজিএম সভায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ করতে না দেওয়ায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন গালিব। তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতির ভবনের অন্যান্য সভায় সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ থাকলেও এ সভায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়