প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জে দেখা যায়নি আওয়ামী লীগকে
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি কিংবা নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। তবে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সারাদিন পুলিশ, বিজিবিসহ সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারি ও টহল লক্ষ্য করা গেছে শহর এবং শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ১৭ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে একাধিক ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হলেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় আজমেরী ওসমানের ব্যানারে একটি মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও অনেকের দাবি, ভিডিওটি পূর্বে ধারণ করা হয়েছিল।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, “মঙ্গলবার শহরের কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, ঝটিকা মিছিল বা সমাবেশ হয়নি। আমরা আগে থেকেই ধারণা করেছিলাম তারা কিছু করার চেষ্টা করতে পারে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।”
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে নগরীর ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় অবস্থিত জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনেও সংগঠনটির কাউকে দেখা যায়নি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়টি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কার্যালয়ের সামনে ছোট ছোট ভাসমান দোকান বসেছে, আর ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছে ভবঘুরে ও মাদকাসক্তরা।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন,পার্টি অফিসের সামনে এতোদিন গোপনে অনেকে মিছিল-সমাবেশ করে গেছে। কিন্তু আজ কাউকে দেখা যায়নি। সকাল থেকেই পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল চলছে। পাশাপাশি বিএনপিরও একের পর এক মিছিল ছিল। তাই ভয়ে আর কেউ আসে নাই।
এদিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কর্মসূচি ঠেকাতে সোমবার রাত থেকেই মাঠে সক্রিয় ছিল বিএনপি। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে চাষাঢ়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার সকালে চাষাড়ায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশকুল ইসলাম রাজীবের নেতৃত্বে মিছিল বের করা হয়। বন্দরে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের ছেলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বেও মিছিলে অংশ নেয় দলীয় নেতাকর্মীরা।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু দাবি করেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের সক্রিয় অবস্থানের কারণেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। তিনি বলেন, “আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে সজাগ থাকবে।
অন্যদিকে, এনসিপির জেলা ও মহানগর শাখার নেতাকর্মীরাও দিনভর মাঠে সক্রিয় ছিলেন। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত তারা চাষাঢ়ার বিবি রোড এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এনসিপি মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলী বলেন, “নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই আমরা মাঠে ছিলাম।
এছাড়া, নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার প্রবেশপথসহ অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সোমবার রাতেই চেকপোস্ট স্থাপন করে পুলিশ। সাইনবোর্ড, শিমরাইল মোড়, ফতুল্লা, সৈয়দপুর, সোনারগাঁও ও কাঁচপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি জোরদার করা হয়। পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহলও দেখা যায়।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার সাতটি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে অনুষ্ঠিত ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।





































