মাদকের মামলায় ১০ দিনে বেরিয়ে যায়, স্ট্রিক্ট হতে হবে: আজাদ
মাদকের সমস্যা সমাধানে আইশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হবার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জে জনসভায় এখানে বিশটি মাদকের স্পট রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন জানিয়ে আজাদ বলেন, “এটা আমাদের জন্য আসলে খুবই লজ্জার বিষয়। উনি সংখ্যা বিশ বলেছেন কিন্তু এসপি মহোদয় এবং আরও দুই-একজন বলেছেন এই সংখ্যা আসলে আরো বেশি। এই মাদক দূর করা খুবই জরুরি। মাদক থেকে আরো অনেক অপকর্ম হচ্ছে। কেউ মাদক সেবন করছে, মাদক সেবন করার পরেও আরো চারটা অপরাধ করছে। ওটা কিন্তু মাদক দিয়ে শুরু। যেভাবেই হোক একটা সমাধানের আওতায় আনা উচিত।”
মাদকের মামলায় ১০ দিন জেল খেটে বেরিয়ে যাওয়ার পর ব্যবসা আরও বেড়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি বলেন, “এদের ক্ষেত্রে আরেকটু স্ট্রিক্ট হতে হবে। আমি বুঝি- প্রত্যেকের বের (জামিন) হবার একটা আইন আছে। তারপরেও এই মাদক ব্যবসা ও সেবন বন্ধ করা গেলে অনেকগুলো পরিবার সেভ হবে। দুই-একটা এক্সাম্পল তৈরি করলে বাকিরাও ভয় পাবে।”
নিজ উপজেলা আড়াইহাজারের ‘ডাকাত প্রবণতা’র কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আড়াইহাজারে দুইটা ডাকাতের গ্রাম আছে। বিগত সময়ে অনেকে এমপি, মেম্বার ও চেয়ারম্যান ছিলেন। তারা এই ব্যাপারে কি উদ্যোগ নিয়েছেন আমি জানি না। কিন্তু আমি নির্বাচিত হবার পর আমার ছোটভাই রাকিবুল ইসলামসহ থানা বিএনপির নেতারা ডাকাত ধরে প্রশাসনের হাতে দিয়েছে। আমি নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- আড়াইহাজারকে আমি ডাকাত ও মাদকমুক্ত করবো।”
ডাকাতি কমাতে এলাকায় ‘পাহারা’র ব্যবস্থাও করেছেন বলে জানান তিনি। এতে ফলাফল ইতিবাচক পাওয়ার কথাও জানান।
“দুই-একজন ডাকাত সুন্দর জীবনযাপনের ব্যবস্থা করা হলে ডাকাতি ছেড়ে দিবেন এবং আত্মসমর্পন করবেন বলেও জানিয়েছে। আমরা নারায়ণগঞ্জে সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে ডাকাত, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, চোর কমে আসবে। আমি মনে করি এটা ঠিক করা সম্ভব।”
গ্রামভিত্তিক সমস্যা সমাধানে গ্রাম আদালত কার্যক্রম জোরদার করার ব্যাপারে তাগিদ দেন এ সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পাশাপাশি এ কার্যক্রমে ইউএনও সম্পৃক্ত হতে পারেন কিনা দেখতে হবে। কিছু কিছু ইস্যু থাকে যেগুলোকে ছোট করে দেখলেও গ্রামে অনেক প্রবলেম হচ্ছে। অমুকের জায়গা অমুক দখল করেছে বা অমুকের ফ্যাক্টরিতে অমুক গিয়ে বসে আছে। যেগুলো সমাধান করতে গিয়ে কোর্টে মামলা বছরের পর বছর চলছে। এক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা করা গেলে দুর্ভোগ কমবে।”
অবকাঠামো উন্নয়ন ও যানজট নিরসনেও কার্যকরি উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন এ সংসদ সদস্য।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে “একটি সুন্দর, প্রগতিশীল, সমৃদ্ধশীল ও একটি আদর্শিক নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা’ সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মুশিউর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নূর কুতুবুল আলম।
এছাড়া সভায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জামায়াতে ইসলামী মহানগরীর সাবেক আমীর মাওলানা মাইনুদ্দিন আহমাদ, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন, ইসলামী আন্দোলন মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ এবং বিকেএমইএ-এর সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





































