নারায়ণগঞ্জে ছিনতাই আতঙ্ক: পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্য
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ছিনতাইকারীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। শহরের সরকারি প্রতিষ্ঠানের সামনেই দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে শহরে প্রকাশ্যে দিনের বেলাতেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পথচারী ও বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীদের থামিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে এসব ছিনতাই করা হচ্ছে। তবে ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়লেও থানায় তেমন অভিযোগ বা মামলা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (১০ মার্চ) ভোরে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় নগর ভবনের সামনে দায়িত্বরত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সরকারি পিস্তলটিও ছিনতাইকারীরা লুট করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, “একজন অস্ত্রধারী এএসআইকে এভাবে আক্রমণ করে তার অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মনে করি জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তাই পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে অনেক দিন ধরেই ছিনতাই ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়ে আমরা পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি, কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। শহরের কিছু নির্দিষ্ট স্থানেই বারবার ছিনতাই হচ্ছে, অথচ সেখানে পুলিশের টহল তেমন দেখা যায় না। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কথাও বলা হয়েছিল, কিন্তু এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “যখন মানুষ সঠিক বিচার পায় না, তখন তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। ছিনতাই কিংবা কাউকে পিটিয়ে হত্যা—কোনোটিই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।”
ছিনতাইয়ের মামলা গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “অনেক সময় পুলিশ ছিনতাই, চুরি বা ডাকাতির মামলা নিতে চায় না। ফলে ভুক্তভোগীরা থানায় যেতে নিরুৎসাহিত হন এবং হয়রানির ভয়ে অভিযোগও করেন না।”
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) তাসমিন আক্তার বলেন, “জেলায় ছিনতাই ও অপরাধ দমনে পুলিশ তৎপর রয়েছে। শহরের জিমখানা, নগর ভবন ও নিতাইগঞ্জ এলাকায় ছিনতাই কমাতে রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত টহল দেওয়া হচ্ছিল। ডিউটি শেষে ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় ওই পুলিশ সদস্যের ওপর এই ঘটনা ঘটে।”
তিনি আরও বলেন, “ছিনতাই রোধে টহল আরও বাড়ানো হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
এদিকে রোববার সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে এক পথচারীর কাছ থেকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে গণপিটুনিতে এক ছিনতাইকারী নিহত হয়। এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বন্দর উপজেলায় এক বিকাশ এজেন্টকে পিস্তল ঠেকিয়ে ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে।





































