২২ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮:৩৭, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ভাড়া নিয়ে বিরোধ, সাইলোতে পাঁচ দিন ধরে খাদ্য পরিবহনে অচলাবস্থা

ভাড়া নিয়ে বিরোধ, সাইলোতে পাঁচ দিন ধরে খাদ্য পরিবহনে অচলাবস্থা

খাদ্যশস্য পরিবহনের ভাড়া ও গাড়ি নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে ঠিকাদার ও পরিবহন শ্রমিকদের বিরোধে নারায়ণগঞ্জ সাইলো খাদ্যগুদামে পাঁচ দিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকেরা কাজে অংশ নিচ্ছেন না। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঠিকাদারেরা বাইরে থেকে গাড়ি এনে খাদ্যশস্য পরিবহন চালু রেখেছেন। অন্য গাড়ি প্রবেশে বাধা নেই এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও গাড়ি পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে খাদ্যশস্য পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকেরা। অন্যদিকে ঠিকাদারদের বক্তব্য, সরকারি দরপত্রে নির্ধারিত দরের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় শ্রমিকদের মাধ্যমে পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তজেলা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও মিনি ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাইলো শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান লিপু বলেন, ‘জ্বালানি ও পরিবহন পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ভাড়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা যৌক্তিকভাবে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছি। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে সাইলো থেকে খাদ্যশস্য পরিবহন স্বাভাবিক করা হোক।’

শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান ভাড়ায় গাড়ি পরিচালনার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাড়া সমন্বয় না হওয়ায় তাঁরা পরিবহন কাজে অংশ নিচ্ছেন না।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় খাদ্য সরবরাহ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল হাই রাজু অভিযোগ করেন, একটি মহল শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে সাইলো থেকে চাল-গমসহ জরুরি খাদ্যপণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারি খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহ বন্ধ রাখা কাম্য নয় উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি তদন্ত এবং পরিবহন স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। তবে শ্রমিকদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলমের বক্তব্যে অবশ্য বাইরে থেকে গাড়ি এনে পরিবহন চালু রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের সরবরাহ কার্যক্রম এখনো বন্ধ আছে। তবে ঠিকাদাররা বাইরে থেকে পরিবহন এনে সরবরাহ কার্যক্রম চালু রেখেছে।’

বিরোধের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি, ঠিকাদাররা তাঁদের এজেন্টের মাধ্যমে গাড়ি নেবেন। অন্যদিকে ঠিকাদারদের বক্তব্য, বাইরে কম ভাড়ায় গাড়ি পাওয়া গেলে এজেন্টের কাছ থেকে গাড়ি নেওয়ার প্রয়োজন কী? বাইরে থেকে অন্য গাড়ি স্বাভাবিকভাবেই ঢুকতে পারছে, কেউ বাধা দিচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সাইলো অধীক্ষক রিয়াজুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে বক্তব্য নিতে বলেন। পরে কার্যালয়ের সামনে গিয়ে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে ফোন ধরে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। ফলে বিরোধের কারণে খাদ্যশস্য পরিবহন কতটা ব্যাহত হচ্ছে, সে বিষয়ে সাইলো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাঁচ দিনের এ বিরোধ নিরসনে শ্রমিক ও ঠিকাদারদের মধ্যে আলোচনা এবং খাদ্যশস্য পরিবহন পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়