২১ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৫৬, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২০:৫৬, ২১ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ: বিভাগীয় কমিশনার

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ: বিভাগীয় কমিশনার

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিয়া বলেছেন, এবারের দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর শীতলক্ষ্যা নদীর ৩ নম্বর মাছঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘এবারের মতো উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে সারা দেশে পূজা উদযাপিত হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে এই উৎসব পালন করছেন। আমরা চাই, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়েছে, তা অব্যাহত থাকুক।’

তিনি বলেন, দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা কাজ করেছেন। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জনপ্রতিনিধিরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পরিশ্রম করেছেন।

পূজায় ছুটি বাড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের এ দাবি পূরণ হওয়ায় উৎসব উদযাপনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে ভালো সমন্বয় ছিল।

বিসর্জনের নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, নদীপথে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সড়কেও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হলে সুশৃঙ্খলভাবে বিসর্জন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলাতেই সম্প্রীতির একই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে কোথাও সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার ঘটনা তাঁর চোখে পড়েনি।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘দেবীকে বিসর্জন দেব, কিন্তু আমাদের মধ্যে যে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়েছে, তা বিসর্জন দেব না। এই সম্প্রীতি অব্যাহত রেখে ভবিষ্যতে যেকোনো অপশক্তি ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

দেশের উন্নয়ন ও জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে সোচ্চার হতে হবে। ব্যক্তিগত বিরোধ ও বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাসমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রসিকিউশন) মো. ইব্রাহিম হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি প্রমুখ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়