২২ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:৩৬, ২২ অক্টোবর ২০২৬

নিত্যপূজার আশ্বাসে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরে প্রতিমা বিসর্জন 

নিত্যপূজার আশ্বাসে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরে প্রতিমা বিসর্জন 

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস দুর্গামন্দিরের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস এবং মন্দিরে নিত্যপূজার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দিয়েছে মন্দির পরিচালনা কমিটি। 

বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে মন্দিরে আরেকটি প্রতিমা স্থাপন করে নিত্যপূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরুণ লাল বেগী। 

তিনি বলেন, “রাত ১২টার দিকে বিসর্জন করা হয়। সকালে মন্দিরে আরেকটি প্রতিমা স্থাপন করে নিত্যপূজার আয়োজন করা হয়েছে। মন্দিরে ঢুকতে আর বাধা দেওয়া হবে না—এমন আশ্বাস আমাদের দেওয়া হয়েছে।” 

এর আগে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান না হওয়ায় দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মন্দির পরিচালনা কমিটি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কমিটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা শুরু হয়। 

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মন্দির পরিদর্শন করেন। 

এ সময় তিনি স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি, মন্দির পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। 

আলোচনার পর মন্দিরের প্রবেশদ্বারে নতুন তালা লাগানো হয় এবং দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের কাছে চাবি দেওয়া হয়। তবে মন্দিরে যাতায়াত ও পূজা-অর্চনায় কাউকে বাধা দেওয়া যাবে না—এ বিষয়ে সমঝোতা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নেতৃত্বে আগামী ২৬ অক্টোবর জমি বিরোধের সমাধানে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে নিত্যপূজা চালু রাখতে বিসর্জনের পর মন্দিরে আরেকটি প্রতিমা স্থাপনের পরামর্শ দেন সাখাওয়াত হোসেন খান। 

মন্দির পরিচালনা কমিটি শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন এবং পূজা-অর্চনা অব্যাহত রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে স্থানীয় থানায় লিখিত আবেদনও করেছে। 

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাস বলেন, আগামী ২৬ অক্টোবরের বৈঠকে জমি বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। একই সঙ্গে মন্দিরে নির্বিঘ্নে নিত্যপূজা চালিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা চান তাঁরা। 

মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের পেছনে রয়েছে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলসের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের ইতিহাস। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ও মিলের কয়েকজন শেয়ারহোল্ডারের ভাষ্য, ১৯৭২ সালে মিলটি জাতীয়করণ করা হয়। পরে লোকসানের মুখে ২০০০ সালে ৫১০ জন শ্রমিকের কাছে মালিকানা হস্তান্তর করা হয়। ২০১২ সালে বিনিয়োগকারী ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত হয় নীট কনসার্ন গ্রুপ। 

মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, নিট কনসার্ন গ্রুপ মন্দির, পুকুর ও মাঠ দখলের চেষ্টা করেছে। নিবন্ধিত মন্দিরের চারপাশে দেয়াল নির্মাণের কারণে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও চিঠিতে দাবি করা হয়। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ১৭ জুন মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান এবং মন্দিরে নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কমিটির নেতারা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়