শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসবে আবারও সম্প্রীতির পরিচয় দিল নারায়ণগঞ্জ
ঢাকের বাদ্য, পূজা-অর্চনা আর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬। উৎসবজুড়ে মানুষের মধ্যে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতা দীর্ঘদিনের লালিত অসাম্প্রদায়িক নারায়ণগঞ্জের পরিচয়কে আবারও তুলে ধরেছে।
মণ্ডপ থেকে বিসর্জন ঘাট পর্যন্ত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত তৎপরতায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে উৎসব। নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ছিল সন্তোষ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটে নগরীর ৫ নম্বর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম শেষ হয়। এবার জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ২১৪টির প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। ২৫টি মণ্ডপের প্রতিমা এবার বিসর্জন দেওয়া হবে না। বাকি একটি মণ্ডপের প্রতিমা পরে বিসর্জনের কথা রয়েছে।
প্রতিমা বিসর্জনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল সুজন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা।
পূজার আগে থেকেই মণ্ডপ ও বিসর্জন ঘাটের নিরাপত্তায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ঘাট পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করেন। উৎসব চলাকালে মণ্ডপে নিরাপত্তার পাশাপাশি টহল, নজরদারি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতি ছিল। নদীপথে বিসর্জনের নিরাপত্তা ও সড়কে শোভাযাত্রার চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির পূজা উদযাপনে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি আয়োজক ও ভক্তদের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিয়া উৎসবকে ঘিরে গড়ে ওঠা সম্প্রীতির বন্ধন ধরে রাখার আহ্বান জানান।
এবারের পূজামণ্ডপগুলোতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নারী, শিশু ও বয়স্কদের নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হওয়ার খবরও পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ আয়োজন সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা ভূমিকা রেখেছেন।
ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি শুভেচ্ছা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতায় এবারের দুর্গোৎসব হয়ে ওঠে সম্প্রীতির মিলনমেলা। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়ে ভক্তরা কামনা করেন সবার শান্তি ও মঙ্গল।





































