সবুজের টানে এক ছাদের নিচে শতাধিক বৃক্ষপ্রেমী
শহরের কংক্রিটের ব্যস্ততার মাঝেও সবুজের টানে একত্রিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের শতাধিক বৃক্ষপ্রেমী। কারও হাতে ফুলের চারা, কারও হাতে বীজ, আবার কেউ এসেছেন নিজের বাগানের বাড়তি গাছ নিয়ে। গাছের প্রতি ভালোবাসা আর সবুজ নগর গড়ার প্রত্যয়ে সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘দেশ-বিদেশে শখের বাগান’ ৩৫তম কর্মসূচিতে মিলিত হন তারা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এ ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির ফাউন্ডার অ্যাডমিন ও লন্ডনপ্রবাসী ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’ সাজেদ হোসেন লিটনের সৌজন্যে দেশব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের নারায়ণগঞ্জ পর্বে সহযোগিতা করেন রাজু মাহমুদ, দীপা রাজিয়া ও শামীমা আক্তার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী আফসার বিপুল, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শহীদ আহমেদ মিঠু, নারায়ণগঞ্জ হাওয়াইয়ান গিটার পরিষদের সভাপতি, ব্যক্তিগত সংগ্রাহক ও গ্রন্থাগারিক অমিতাভ চক্রবর্তী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক শ্রীকান্ত চন্দ্র নন্দীসহ অনেকে।
শ্রীকান্ত চন্দ্র নন্দী বলেন, "প্লাস্টিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার ও বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে দেশের নদী-নালা, খাল-বিল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিবেশ ও নগরবাসীকে রক্ষা করতে হলে প্লাস্টিক বর্জন করে পাটের মতো দেশীয় সম্পদের ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং বারান্দা ও ছাদে প্রচুর গাছ রোপণ করতে হবে। এছাড়া নগরাঞ্চলে এলোমেলো গাছ না লাগিয়ে নান্দনিক ও উপযুক্ত দেশীয় গাছ চিনে রোপণ করা জরুরি। সবুজায়নের এই প্রয়াস কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং দেশীয় প্রকৃতি ও গাছপালাকে জেনে-বুঝে বাস্তবসম্মত উদ্যোগের মাধ্যমে সফল করতে হবে।"
ছাদবাগানের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, "প্লাস্টিকের বহুল ব্যবহারে নদী-নালা নষ্ট হয়ে পরিবেশ থেকে দেশীয় মাছ ও সবজি হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে আজ হাইব্রিড ও বিষাক্ত খাবারের কারণে মানুষ ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও মুক্ত অক্সিজেন গ্রহণের জন্য আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে ঘরে-বাইরে ও বারান্দায় গাছ লাগাতে হবে।"
নগরাঞ্চলের পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করে আফসার বিপুল বলেন, "গ্রামে প্রাকৃতিক পরিবেশ সহজলভ্য হলেও নগরে সচেতনভাবে প্রকৃতি গড়ে তুলতে হয়। শহরের যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে সিটি করপোরেশনের সুনির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি নগরের সৌন্দর্যায়ন ও নান্দনিকতার জন্য অশোক, রাজ-অশোক, সোনালু কিংবা জারুলের মতো উপযুক্ত দেশীয় গাছ নির্বাচন করা প্রয়োজন।"
সংগঠনটির অ্যাডমিন কানিজ চাপা বলেন, "আমাদের মুক্ত টেবিলে যাদের অতিরিক্ত গাছ আছে, তারা তা জমা দিয়েছেন, আর যাদের প্রয়োজন তারা বিনামূল্যে সংগ্রহ করছেন। তবে চারা নেওয়ার পর সেগুলোর সঠিক যত্ন নেওয়া এবং নিয়মিত আপডেট দেওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। গাছ বেঁচে না থাকলেও পরামর্শের জন্য আমাদের জানানো উচিত।"
আয়োজকরা জানান ‘দেশ-বিদেশে শখের বাগান’ গ্রুপটি সাজেদ হোসেন লিটনের নেতৃত্বে সারা দেশে সবুজায়নে কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জ তাদের ৩৫তম জেলা হিসেবে এই চারা বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন করল। এছাড়া প্রতি দুই মাস পরপর ঢাকায় বড় পরিসরে এবং দেশের অন্যান্য জেলায় এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হয়।
প্রবাসী সাজেদ হোসেন লিটন লন্ডন থেকে বীজ পাঠান এবং স্থানীয়ভাবে চারা কিনে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।





































