শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাহিদা পূরণে জব ফেয়ার কার্যকর ভূমিকা রাখছে: ডিসি
নারায়ণগঞ্জে চাকরি প্রত্যাশী ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে জব ফেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে চাকরিপ্রত্যাশীরাও নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে নগরীর জামতলা এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) আয়োজিত চাকরি মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অপ্রশিক্ষিত, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত এ জব ফেয়ারে প্রায় ১৫টি শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি জানান, মেলায় প্রায় ২৮৫ থেকে ২৮৮ জন চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে রেইজ প্রকল্পের প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন দক্ষতা সম্পন্ন চাকরিপ্রত্যাশীরাও রয়েছেন। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সদস্যদের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনে আগ্রহীরাও অংশ নিয়েছেন।
মো. রায়হান কবির বলেন, এ ধরনের জব ফেয়ারে গড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী চাকরি পেয়ে থাকেন। নারী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, যা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি শ্রমঘন শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। অনেকের দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের অভাবে তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। জব ফেয়ার সেই ঘাটতি দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
জেলা প্রশাসক জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও ভবিষ্যতে বড় পরিসরে জব ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জেলার শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি দক্ষ কর্মী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, সরকারের কর্মসংস্থান পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যোগ্য ব্যক্তিদের চাকরির আওতায় আনতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ কর্মী নির্বাচন করতে পারবে এবং চাকরিপ্রত্যাশীরাও নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কর্মস্থল বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফের রেইজ পরিবেশ বিশেষজ্ঞ শাহীনুর রহমান, ডিএসকের যুগ্ম পরিচালক (ঋণ কার্যক্রম) মো. আলাউদ্দিন এবং ডিএসকে রেইজ প্রকল্পের সমন্বয়কারী রাখী ম্রংসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফের অর্থায়নে দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।





































