সিদ্ধিরগঞ্জে ইকবাল অনুসারীদের বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে এক সরকারি কর্মচারীর নির্মাণাধীন স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক নাসিক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নাসিকের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনাদী ধনু হাজী রোড এলাকায় এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত পাঁচজনকে ধরে পুলিশে দিলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মো. শাহাদাৎ হোসেন সানু পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি গাড়িচালক বলে জানান। তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগে গাড়ি চালাতেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ওই এলাকায় স্থাপনা নির্মাণ করছিলেন তিনি। সেখানে দোকান ও ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষদিকে ছিল। এসব নির্মাণে প্রায় ১৪ হাজার ইট ব্যবহার করা হয়। শুধু স্থাপনার ওপরে টিন লাগানোর কাজ বাকি ছিল।
কিন্তু গতরাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের নিদের্শে তার অনুসারীরা এসব স্থাপনা ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করেন শাহাদাৎ।
তার অভিযোগ, এই ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার আগেই স্থানীয় বিএনপি নেতা এমএ হালিম জুয়েলের সুপারিশে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।
এর আগেও নির্মাণকাজ শুরু করার সময় তার স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। এবার নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর আবারও ভাঙচুর করা হয় বলেও উল্লেখ করেন ওই গাড়িচালক।
তিনি এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য এম এ হালিম জুয়েল বলেন, ঘটনাটি দুই পক্ষের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়। পাঁচজনকে আটকের পর পুলিশ আমাকে বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব নিতে বলেছিল। আমি দুই পক্ষের সম্মতি ছাড়া কোনো দায়িত্ব নিতে চাইনি।
জুয়েল বলেন, দুই পক্ষকে বসে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দিয়েছি। দুই পক্ষ সম্মত হলে কাগজপত্র দেখে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে দুই পক্ষের কেউই এখনো তাকে আলোচনার সময় জানাননি।
তবে, এ বিষয়ে বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনের নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হকের সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিক বার কল করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।





































