ডাস্টবিনের অভাবে বাড়ছে সড়কে আবর্জনা, নতুন উদ্যোগ নাসিকের
নারায়ণগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকের বোতল। এতে নোংরা হচ্ছে সড়ক ও আশপাশের পরিবেশ।
নাগরিকদের এ ভোগান্তি কমাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্যাডেলচালিত আধুনিক কন্টেইনার ও ডাস্টবিন বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)। নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, খুব শিগগিরই এসব কন্টেইনার স্থাপন করা হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিতাইগঞ্জ থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়ক ও আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ডাস্টবিন নেই। ফলে পথচারী, যাত্রী ও দোকানিরা অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার পাশে ময়লা ফেলছেন।
সিটি করপোরেশন কার্যালয় থেকে মণ্ডলপাড়া পুল পর্যন্ত পুরো পথে মাত্র একটি ডাস্টবিন পাওয়া গেছে, সেটিও পরিবেশ অধিদপ্তরের। মণ্ডলপাড়া পুল থেকে ডিআইটি হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্কের প্রবেশপথ, ডিআইটি এলাকার ওষুধের দোকান থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত সড়কের বাম পাশের দোকানগুলোর সামনে, দুই নম্বর গেটের আলমাস পয়েন্ট ও আশপাশের বাণিজ্যিক ভবন, দুই নম্বর গেটের তিন রাস্তার মোড় এবং কালীবাজারের তিন রাস্তার মোড়ের মতো জনবহুল এলাকায় সিটি করপোরেশনের স্থায়ী ডাস্টবিন চোখে পড়েনি।
এসব এলাকায় রাস্তার কোণে পানির খালি বোতল, চিপস ও চকোলেটের খোসাসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে একটি লাচ্ছির দোকান থেকে পানীয় খেয়ে প্লাস্টিকের কাপ রাস্তায় ফেলতে দেখা যায় পথচারী মোহাম্মদ জনিকে। কেন কাপটি নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে রাস্তায় ফেলেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রাস্তায় তো ময়লা ফেলার অন্য কোনো জায়গা বা ডাস্টবিন নেই, তাই বাধ্য হয়ে এখানেই ফেললাম।”
পাশের এক জুস ব্যবসায়ী সিরাজের কাছে ময়লা ফেলার জন্য ব্যাগ না রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভাই, ময়লা ফেলার ব্যাগ ছিল, কিন্তু এখন শেষ হয়ে গেছে। আমি একটু পরেই আবার ব্যাগ এনে রেখে দিচ্ছি, যাতে কাস্টমাররা কাপ সেখানে ফেলতে পারে।”
ডিআইটি সড়কেও ময়লা ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা গেছে। সকালে এক দোকানিকে দোকান ঝাড়ু দিয়ে জমা হওয়া ময়লা সরাসরি রাস্তায় ফেলতে দেখা যায়। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দোকানি বলেন, “এখানে ময়লা ফেলার তো নির্দিষ্ট কোনো জায়গা বা ডাস্টবিন নেই। আমরা রাস্তায় ময়লা ফেলে রাখি, পরে সিটি করপোরেশনের লোকজন এসে নিয়ে যায়।”
চাষাঢ়া বাসস্ট্যান্ড ও এর বিপরীত পাশের সড়কেও পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় যাত্রীদের ফেলে যাওয়া ময়লা জমতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু যাত্রী চলন্ত বাসের জানালা দিয়েও রাস্তায় আবর্জনা ফেলছেন।
শহরের ডাস্টবিন সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা হয় নাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হিরণের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে দুই নম্বর গেট ও বাস টার্মিনালের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন রাখা হতো। তবে দুর্গন্ধ ও ময়লা জমে থাকার ভোগান্তি এড়াতে সকাল সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হতো।
আলমগীর হিরণ বলেন, “নাগরিকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমরা নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এখন আর আগের পদ্ধতির ডাস্টবিন নয়, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পায়ে চাপ দিলে ঢাকনা খুলে যায়- এমন আধুনিক কন্টেইনার বা ডাস্টবিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমাদের প্রশাসক মহোদয়। এই আধুনিক কন্টেইনারগুলো আমরা পুরো শহরে খুব শিগগিরই স্থাপন করব, যাতে সাধারণ মানুষ বোতল বা ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে পারেন।”
তিনি আরও জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে থ্রি-আর-রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল-নীতি এবং বর্জ্য পৃথকীকরণ প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।





































