২ যুগেও হয়নি বালু নদে সেতু, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বালু নদের ওপর নির্মাণাধীন নগরপাড়া সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় দুই যুগ ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা সেতুটি চালুর দাবিতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়া বাজার এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০০৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসন এবং রূপগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল ও কয়েকটি আবাসন কোম্পানির সিন্ডিকেটের চক্রান্তে প্রকল্পটির অগ্রগতি থমকে যায় বলে অভিযোগ তাঁদের।
বক্তারা বলেন, দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া রূপগঞ্জবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন সময়ে ৭ দশমিক ৩০ মিটার প্রশস্ত সেতুটির প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। নির্মাণকাজ শুরুর পর মূল অবকাঠামোর বড় একটি অংশ তৈরি হলেও পরবর্তী সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর টেন্ডার জটিলতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং স্থানীয় ও বহিরাগত আবাসন সিন্ডিকেটের বাধার কারণে সেতুটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সেতুটি চালু না হওয়ায় ঢাকা শহরের কাছাকাছি অবস্থান করেও রূপগঞ্জ ও কায়েতপাড়া অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে যাতায়াতের জন্য প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে জ্বালানি খরচ ও গণপরিবহনের ভাড়া। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, নগরপাড়া সেতু চালু হলে রূপগঞ্জের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট কমাতেও সেতুটি ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদের অন্যতম সংগঠক ও প্রতিনিধি আহসান উল্লাহ মাস্টার, অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল খান, ব্যাংকার আবু বকর সিদ্দিক, বাংলাদেশ পাটশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি হাসেন আলী ব্যাপারী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শিপলুসহ স্থানীয় অনেকে।





































