বন্দরে প্রবাসীকে মাদক মামলায় জড়ানোর অভিযোগ, এসপির কাছে নালিশ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক প্রবাসী যুবককে মাদক মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ছেলে রনিকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর আব্বা হাজী লোকমান হোসেন। এ ঘটনায় বন্দর থানার ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্তের দাবিতে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
তবে বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রনির নাম এসেছে। তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বন্দর থানার তিনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাজী লোকমান হোসেন গত ২০ অক্টোবর লিখিত অভিযোগটি দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর ছোট ছেলে রনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। সেখানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৫ অক্টোবর তাঁকে দেশে এনে ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের মেডিহোম হাসপাতালে তাঁর জটিল অস্ত্রোপচার হয়। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রনির তিন থেকে চার মাস সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকা প্রয়োজন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর তিনগাঁও এলাকায় ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পরদিন বন্দর থানায় মামলা হয়। এসআই মো. লুৎফর রহমানের দায়ের করা ওই মামলায় রনিকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় রনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর অবস্থান ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাঁকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
হাজী লোকমান হোসেনের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে রনিকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি ওসি জামাল উদ্দিন, এসআই মো. লুৎফর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট তিন পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
লিখিত অভিযোগে লোকমান হোসেন আরও দাবি করেন, পুলিশ সুপার মামলাটির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বিস্তারিত না জেনে ও নথিপত্র না দেখেই তাতে স্বাক্ষর করার কথা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, “এমন একটি তথ্য আমি পেয়েছি। মূলত এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রনির নাম এসেছে। যেহেতু মামলাটি তদন্তাধীন, তাই আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্তে যদি তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাই, তাহলে মামলায় তাঁর নাম থাকবে, অন্যথায় থাকবে না।”
রনির পরিবারের দাবি, তিনি মাদকসংক্রান্ত ওই ঘটনায় জড়িত নন। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।





































