২১ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮:৪৩, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৮:৪৪, ২১ অক্টোবর ২০২৬

জমি বিরোধ নিরসনে ২৬ অক্টোবর সাখাওয়াতের নেতৃত্বে বৈঠক

লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের প্রবেশগেটে নতুন তালা, দুই পক্ষকে চাবি হস্তান্তর

লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের প্রবেশগেটে নতুন তালা, দুই পক্ষকে চাবি হস্তান্তর
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্দিরে নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রবেশগেটে নতুন তালা লাগিয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের হাতে চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে আগামী ২৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি সমাধানের উদ্যোগ নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাখাওয়াত হোসেন খান মন্দিরে গিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, মন্দিরের প্রবেশপথ বন্ধ করে ভক্তদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেওয়া যাবে না। ভক্তদের নির্বিঘ্নে প্রবেশ নিশ্চিত করতে গেটে নতুন তালা লাগিয়ে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের চাবি দেওয়া হয়। এ সময় প্রশাসক উভয় পক্ষকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান।

মন্দির কমিটির প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানান সাখাওয়াত হোসেন খান। ধর্মীয় উৎসবের কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, জমি-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আগামী ২৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করা হবে। পাশাপাশি দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের পর বিকল্প প্রতিমা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিত্যপূজা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

পরে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি জানিয়ে স্থানীয় থানায় লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শঙ্কর কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, সহসভাপতি তিলোত্তমা দাস, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির জেলা শাখার সভাপতি টনি মল্লিক, স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেন লেকু, যুবদল নেতা সাগর প্রধান, লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জমি নিয়ে বিরোধের সমাধান না হওয়ায় এবারের দুর্গোৎসবে প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্দির কমিটির নেতারা। খবর পেয়ে ওই দিন বিকেলে মন্দির পরিদর্শন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। এ সময় মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। ইউএনও তাঁদের ২৬ অক্টোবর বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে বৈঠকে বসার কথা জানান।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলসের শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে মিলটি রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। দীর্ঘদিন লোকসানের পর ২০০০ সালে সরকার কারখানাটির মালিকানা ৫১০ জন শ্রমিক-কর্মচারীর কাছে হস্তান্তর করে। পরে ২০১২ সালে নিট কনসার্ন গ্রুপ বিনিয়োগকারী হিসেবে কারখানাটির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হয়।

মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, নিট কনসার্ন গ্রুপ মন্দির, পুকুর ও মাঠের জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। কমিটির দাবি, বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নিবন্ধিত মন্দিরটির চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে ভক্তদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। চিঠিতে ২০২৩ সালের ১৭ জুন মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।

মন্দির কমিটির সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, আগামী ২৬ অক্টোবরের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আলোচনা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে। একই সঙ্গে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত হবে।’

সর্বশেষ

জনপ্রিয়