মাদ্রাসার ছাদের ওপর ৩৩ হাজার ভোল্টের তার, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চারতলা মাদ্রাসা ভবনের ছাদের ওপর দিয়ে গেছে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তার। সেই ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়েছে ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী পাঁচ ছাত্রী। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ছাদে শিক্ষার্থীরা কীভাবে যাওয়ার সুযোগ পেল ঘটনার পর মাদ্রাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ জিদনী (১৪), লামিয়া (১৩), সুমাইয়া (১৩), আছিয়া (১২) ও আতিয়াকে (১১) ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিদনীর শরীরের ৮২ শতাংশ, লামিয়ার ৫৫ শতাংশ, আতিয়ার ৪৫ শতাংশ, সুমাইয়ার ১৩ শতাংশ এবং আছিয়ার ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
দগ্ধ লামিয়ার মা সাথী বেগম বলেন, “মেয়েকে মাদ্রাসায় রেখে বাসায় ফিরছিলাম। পথে মাদ্রাসার হুজুর ফোন দিয়ে বলল, আমার বাচ্চা অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, পুড়ে গেছে। আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি সেখানে লোকজন জড়ো হয়ে আছে।”
দগ্ধ জিদনীর মা বলেন, “খবর শুনে দৌড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শুনি আমার মেয়েসহ আরও চারজন দগ্ধ হয়েছে। পরে আমরা ঢাকা মেডিকেলে চলে আসি।”
দগ্ধ আছিয়া জানায়, ঘটনার সময় পাঁচ ছাত্রী ছাদে খেলছিল। তাদের সঙ্গে মরিয়ম নামে একজন শিক্ষিকাও ছিলেন। খেলতে খেলতে হঠাৎ বিকট শব্দ হয় এবং আগুনের তাপ তাদের গায়ে লাগে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ছাদের ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তার গেছে। ঘটনার সময় ছাত্রীদের সঙ্গে খাওয়ার জন্য আখ ছিল।
ফতুল্লা বিসিক ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল হালিম বলেন, “ছাদে কাঁচা পাতাযুক্ত আখ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আখটি ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে ঝলকানি থেকে আগুনের সৃষ্টি হয়।”
এ অবস্থায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তারের নিচে শিক্ষার্থীদের ছাদে ওঠার সুযোগ কেন ছিল, ছাদে ওঠার পথ নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা ছিল কি না এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
মাদ্রাসাটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন মুফতি আ. রহমান কাসেমী। তিনি নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি মসজিদের খতিব ও হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা আব্দুল আউয়ালের মেয়ের জামাতা।
ঘটনার পর শিক্ষক ও স্থানীয়রা দগ্ধ ছাত্রীদের প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।





































