০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:০২, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মা হসপিটালের বিরুদ্ধে প্রসূতিকে ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগ থানায়

মা হসপিটালের বিরুদ্ধে প্রসূতিকে ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগ থানায়

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনপুরের মা হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়গনস্টিক সেন্টারে ‘চিকিৎসায় অবহেলা’র শিকার প্রসূতি নারী সিনথিয়া রহমান সন্ধ্যা (২৩) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর মা মানসুরা বাদী হয়ে অভিযোগটি থানায় দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

এতে মা হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়গনস্টিক সেন্টারের মালিক রুহুল আমিন (৪৯), সিজারিয়ান অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. সাইমা আক্তার (৩৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ আগস্ট সকাল সাতটার দিকে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিনথিয়াকে মদনপুরের মা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসক ডা. সাইমা আক্তার তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন। সকাল ১১টা ১০মিনিটে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের পর প্রসূতিকে কোনো পোস্ট-অপারেটিভ পর্যবেক্ষণ কক্ষে না রেখে সরাসরি সাধারণ বেডে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকেই তার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে পেট ফুলে যেতে থাকে। বিষয়টি স্বজনরা চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা এটিকে গ্যাসের সমস্যা বলে ব্যাথানাশক ওষুধ ও স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চার দিন পর ১৩ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে ‘বাথরুম হলে পেটের ফোলা কমে যাবে’ বলে আশ্বাস দিয়ে প্রসূতিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ওই দিন রাত ১১টার দিকে তার পেটের ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠলে রাত ১টার দিকে তাকে পুনরায় মা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, তখনও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা গ্যাসের সমস্যা উল্লেখ করে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে স্বামী মো. মাসুম (৩১) তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদসরা বলেন, ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে জরুরি ভিত্তিতে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে চিকিৎসকরা তাদের জানান, আগের সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে যাওয়ার কারণে খাবার পেটের ভেতরে জমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এবং এ কারণে তার পেট ফুলে যায়। বর্তমানে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ করেন তারা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মা হাসপাতালের পরিচালক রুহুল আমিন। তিনি বলেন, “আমাদের হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। রোগী চার দিন চিকিৎসা নিয়ে পুরোপুরি সুস্থ অবস্থায় হেঁটে বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি যাওয়ার পর পথে বা বাড়িতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়