ট্রাকের ধাক্কায় সিঁড়ি ভাঙা নিয়ে ফতুল্লায় পাল্টাপাল্টি হামলা-ভাঙচুর
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের একটি ট্রাকের ধাক্কায় সড়কের পাশে স্থানীয় একজনের বাড়ির সিঁড়ির অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মারধর, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত দু’জন বিএনপি নেতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকরা একে-অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও করেছেন। পরে স্থানীয় বিএনপির অন্য কয়েকজন নেতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ফতুল্লার রামারবাগ এলাকায় বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলে।
স্থানীয় লোকজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যয়, রামারবাগ এলাকায় ‘সুপার স্টার’ কোম্পানির একটি ট্রাকের ধাক্কায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহন আহম্মেদ মমিনের বাড়ির বাইরের সিঁড়ির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ নিয়ে মোহন, আলতাফসহ কয়েকজন ট্রাক চালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়ান এবং চালককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার ও সহসাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে চালককে মারধরের কারণ জানতে চান। এ নিয়ে মোহন ও আলতাফের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আনিছুর রহমান ও রুহুল আমিন শিকদারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
রুহুল আমিন ও আনিছুরের অভিযোগ, চালককে মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে আনিছুরকে চর মারেন আলতাফ। পরে রুহুল আমিন তার প্রতিবাদ করলে দুইজনকেই মারধর করেন আলতাফ ও তার লোকজন।
এদিকে, বিএনপি নেতাদের মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের অনুসারী নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। যদিও তার কিছুক্ষণ আগেই মোহন, আলতাফসহ সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে রাত নয়টার দিকে আলতাফের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। একই সময় ক্ষুব্ধ কিছু নেতা-কর্মী মোহনের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রুহুল আমিন শিকদার ও তার অনুসারীরা তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। সুপার স্টার কোম্পানির পক্ষ নিয়ে শুরু থেকেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন রুহুল আমিন ও তার অনুসারীরা।
এদিকে, এ পরিস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে যান ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা। পরে পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, দুই নেতাকে মারধরের খবর পেয়ে তিনি ও বিএনপি নেতা তৈয়াবুর রহমানসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উত্তেজিত অবস্থায় ছিলেন। পরিস্থিতি যাতে আরও ভয়াবহ না হয়, সে জন্য তাদের বুঝিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় রুহুল আমিন শিকদার বাদী হয়ে আটজনকে অভিযুক্ত করে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, বুধবার দুপুরে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বারী ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোহন আহম্মেদ ওরফে মমিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফতুল্লা থানা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মোহন আহম্মেদ ওরফে মমিনের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ স্থগিত করা হয়েছে।





































