২৭ জুন ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৪৯, ২৭ জুন ২০২৬

বন্দরে বাড়িঘরে রাতের বেলা দুর্বৃত্তের ঢিল, থানায় অভিযোগ

বন্দরে বাড়িঘরে রাতের বেলা দুর্বৃত্তের ঢিল, থানায় অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকায় প্রায় ১০০ বছর ধরে বসবাস করে আসা একটি হিন্দু পরিবারের বসতভিটা ও মন্দির এলাকায় হামলা ও ভয়ভীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী রঞ্জিত চন্দ্র দাস (৫৪) জানান, বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকায় তাদের পূর্বপুরুষদের পাট্টা সূত্রে প্রাপ্ত ৭ শতাংশ বসতভিটা ও ২৪ শতাংশ পুকুরের জমি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ও তার শরিকদের প্রায় পাঁচটি পরিবার ওই এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। এলাকাটিতে তাদের পরিবার ‘ধোপা বাড়ি’ নামেই পরিচিত।

পরিবারটির দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে তাদের পক্ষে মহামান্য হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রয়েছে। আদালতের রায়ের তথ্যসংবলিত একটি সাইনবোর্ড তারা নিজেদের জমিতে স্থাপন করেছিলেন। তবে প্রায় তিন মাস আগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সেই সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন রঞ্জিত চন্দ্র দাস।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রঞ্জিত চন্দ্র দাসের বড় ভাই মানিক (৫৫) তাদের জায়গায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় পাশের সিকদার আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেতর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের মন্দিরের বাউন্ডারিতে এলোপাতাড়ি ইট নিক্ষেপ করে। পরে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের গেট খুলতে চাপ দেয় এবং গেট না খুললে তালা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। রঞ্জিত চন্দ্র দাস দাবি করেন, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাদের জমিতে একটি সামাজিক ক্লাব নির্মাণের চেষ্টা করেছিল। তবে আদালতের রায়ে তারা বৈধ মালিক হিসেবে বহাল থাকায় ওই চেষ্টা সফল হয়নি।

পরিবারটির সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে তাদের জানমাল ও সম্পদের আরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়