১১ জুন ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮:২৪, ১১ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ: টানের সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় রাস্তায় সজলরা

বিশ্বকাপ: টানের সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় রাস্তায় সজলরা

দু’দিন আগেও তিনি ছিলেন পরিবহন চালক। পিকআপ ভ্যানে পণ্য পরিবহনের কাজ করতেন। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা শুরু হতেই বন্ধুদের পরামর্শে পেশা বদলে হাতে তুলে নিয়েছেন পতাকা। ঘুরে ঘুরে ফুটবল বিশ্বের নানা দেশের পতাকা বিক্রি করছেন।

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ব্যস্ত সড়কে দেখা মিললো সজল মিয়া নামে এ যুবকের। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর এ বাসিন্দা বাণিজ্যিক শহর নারায়ণগঞ্জের অলিগলি ঘুরে বেড়াচ্ছেন পতাকা বিক্রির আশায়। ফতুল্লার লালখাঁ এলাকায় একটি বাসা ভাড়াও নিয়েছেন। একাই থাকছেন সেখানে।

সজল বলেন, গ্রামের বাড়িতে রয়েছেন তার মা, স্ত্রী ও দুই ছোট পুত্র সন্তান। বাবা নেই। ঈদের পর বাড়ি থেকে ফিরে সংসারের বাড়তি খরচ মেটানোর আশায় নেমেছেন এই মৌসুমি ব্যবসায়। তবে পরিবারের সদস্যরা জানেন এখনও তিনি পিকআপ ভ্যান চালান।

“দু’দিন আগে পর্যন্ত পিকআপ ভ্যান চালাতাম। বন্ধুদের কথায় ভাবলাম বিশ্বকাপ আসছে, পতাকা বিক্রি করলে হয়তো কিছু বাড়তি আয় হবে। তাই এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে পতাকা বিক্রি করছি,” বলেন ওই যুবক।

তার কয়েকজন বন্ধুও একইভাবে পতাকা বিক্রি করেন। তাদের কাছ থেকেই এই কাজের ধারণা পান। সজলের ভাষায়, “ওদের মোটামুটি ভালো আয় হয়। তাই আমিও বাড়তি আয়ের আশায় নেমেছি।”

তার অভিজ্ঞতায়, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় এখনো সবার উপরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। তবে জার্মানির পতাকারও চাহিদা রয়েছে।

আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় এবার বাজার কিছুটা মন্দা বলেই মনে করছেন সজল। তার ভাষায়, মানুষের আগ্রহ কিছুটা কমেছে, আবার শহরে পতাকা বিক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে।

“বিগত সময়ের তুলনায় এবার পতাকার চাহিদা কম মনে হচ্ছে। তবে হকারও অনেক বেশি, তাই হয়তো এমনটা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

তার পর্যবেক্ষণে, মাঝারি আকারের পতাকাই সবচেয়ে বেশি কিনছেন ক্রেতারা। কেউ বাড়ির বারান্দায়, কেউ দোকানের সামনে কিংবা মোটরসাইকেলে লাগানোর জন্য এসব পতাকা সংগ্রহ করছেন।

তবে মৌসুমি এই ব্যবসা দিয়ে সংসার কতটা চলবে, সে প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেনি সজল।

কাঁধে রঙিন পতাকার গুচ্ছ, কিন্তু চোখেমুখে অনিশ্চয়তার ছাপ। বিশ্বকাপ এলেই দেশের শহরগুলোতে এমন অসংখ্য মৌসুমী ব্যবসায়ীর দেখা মেলে, যাদের কাছে ফুটবল শুধু খেলা নয়, কয়েক দিনের অতিরিক্ত আয়ের একটি সুযোগও। সেই সুযোগকে আঁকড়ে ধরেই নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় রোদ মাড়িয়ে হেঁটে চলেছেন সজল মিয়ার মতো মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়