পুলিশের ধরপাকড়ের মধ্যেই যুবলীগের মিছিল
নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মিছিল ও মিছিলের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ধরপাকড়ের মধ্যেই রূপগঞ্জে যুবলীগের ব্যানারে মিছিল হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রূপগঞ্জের পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মাসুম চৌধুরী অপুর নেতৃত্বে এ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘চলছে লড়াই, চলবে শেখ হাসিনা লড়বে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে গত কয়েক দিনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মিছিল এবং পুলিশের অভিযানের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রূপগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের মিছিলের প্রস্তুতির সময় ১৫ জনকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে লাঙ্গলবন্দ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরেও সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল করেন। এরপর শুক্রবার সকালে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়কে আবারও মিছিল করে মহানগর আওয়ামী যুবলীগ।
মহানগর আওয়ামী যুবলীগের ব্যানারে আয়োজিত ওই মিছিলে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন। তাঁদের সবার মুখে মাস্ক ও মাথায় ক্যাপ ছিল। মিছিলের ছবি ও ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের নজর এড়াতে সকালে তুলনামূলক কম জনসমাগমের সময়ে মিছিলটি করা হয়।
এদিকে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেলা ছাত্রসমাজের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন রুপুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে মাসদাইর এলাকায় সরকারবিরোধী মিছিল থেকে চারজনকে আটকের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিছিলকারীদের ধাওয়া করে চারজনকে আটক করে। রুপুকেও একই রাতে ইসদাইর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
রূপগঞ্জের ৩০০ ফিট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও বিশেষ তৎপরতা দেখা গেছে। এর আগে ওই এলাকায় জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে মধ্যরাত পর্যন্ত চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় একদিকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মিছিলের ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে এসব কর্মসূচি ঠেকাতে পুলিশ গ্রেপ্তার ও আটকের অভিযান চালাচ্ছে। ফলে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।





































